সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে যৌথভাবে বেলা, নিজেরা করি, ব্লাস্ট, টিআইবি, ব্র্যাক, বাপা, গণসাক্ষরতা অভিযান, আইআরভি, সুজন, এলআরডি ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ। এসব সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা জেলা প্রশাসন অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য গণশুনানির আয়োজন করলেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সব মতামত উপেক্ষা করে কৃষিজমি হুকুম-দখলের সিদ্ধান্ত নেয়।

সব সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি কুদরত-ই খুদা। তিনি বলেন, ২০২০ সালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ পশুর নদ ড্রেজিং-সংক্রান্ত ‘মোংলা বন্দর ইনার বার ড্রেজিং’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করে। এ প্রকল্পের অধীন পশুর নদের ড্রেজিং করা বালুমাটি ফেলার জন্য ১ হাজার একর জমি হুকুম-দখলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের ৭০০ একর জমি সরকারিভাবে হুকুম-দখলের মাধ্যমে বালুমাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ একর জমিতে বালু ফেলা সম্পন্ন হয়েছে। এর বাইরে খুলনার দাকোপ উপজেলার বাণীশান্তা ইউনিয়নের ৩০০ একর কৃষিজমিতে বালু ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে খুলনা জেলা প্রশাসন থেকে বাণীশান্তা এলাকার ২৫০ জন কৃষিজমির মালিককে হুকুম-দখলের নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে জমির মালিকেরা আপত্তি জানান। তাঁরা তাঁদের জমিতে বালুমাটি না ফেলার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। খুলনা জেলা প্রশাসন অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য গণশুনানির আয়োজন করলেও সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সব মতামত উপেক্ষা করে মোংলা বন্দরের অনুকূলে বাণীশান্তা ইউনিয়নের ৩০০ একর কৃষিজমি হুকুম-দখলের সিদ্ধান্ত নেয়।

কুদরত-ই খুদা দাবি করেন, বাণীশান্তা এলাকার তিন ফসলি কৃষিজমিকে অকৃষি ও অনুর্বর দেখিয়ে তা জনমত যাচাই ছাড়াই হুকুম-দখল করে মাটি ভরাট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বাণীশান্তার প্রস্তাবিত ৩০০ একর জমি উর্বর তিন ফসলি কৃষিজমি। বাণীশান্তার কৃষিজমিতে আষাঢ় থেকে পৌষ মাসে আমন ধান, পৌষ থেকে বৈশাখ মাসে তরমুজ, বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত আউশ ধান ও অন্যান্য রবিশস্য চাষ করা হয়। মাটি ফেলার ফলে শস্য চাষের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এলাকার প্রান্তিক মানুষদের জীবন-জীবিকার অন্যতম সংস্থান পুকুর, জলাশয়, মৎস্যসম্পদ ও গবাদিপশু। স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হবে অন্তত ১ হাজার ৫০০ ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিবার।

কুদরত-ই খুদা বলেন, এলাকাবাসী নদী ড্রেজিংয়ের বিপক্ষে নয়। কিন্তু তা কৃষকের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে এবং কৃষিব্যবস্থা ও সমাজ ভেঙে দিয়ে হতে পারে না। কৃষিজমিতে মাটি ভরাটের সিদ্ধান্ত কৃষিজমি সংরক্ষণ ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ও অনুশাসনের পরিপন্থী। যেহেতু ড্রেজিং করা বালুমাটি ফেলার উপযুক্ত ও বিকল্প স্থান রয়েছে, সেহেতু বাণীশান্তার ৩০০ একর উর্বর কৃষিজমি হুকুম-দখলের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।