স্কুল ফাঁকি দিয়ে আড্ডা, চার শিক্ষার্থীকে ২০০টি করে গাছ লাগাতে বললেন ইউএনও
স্কুল ফাঁকি দিয়ে পুকুর পাড়ে বসে আড্ডা দেওয়ায় রাজবাড়ী পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে ‘শাস্তি দিয়েছেন’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। ‘শাস্তি হিসেবে’ আগামী ৭ দিনে তাঁদের প্রত্যেককে অভিভাবকসহ ২০০টি করে গাছের চারা রোপণের নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা পৌনে দুইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত বিআরডিবি কার্যালয় থেকে বৃক্ষ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠান শেষে নিজ কার্যালয়ে ফিরছিলেন পাংশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক। এ সময় তিনি দেখতে পান, উপজেলা পরিষদের ভেতর পূর্ব পাশের পুকুর ঘাটে স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিতি চারজন ছাত্র দাঁড়িয়ে আছে। তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায়, পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। টিফিন সময়ে ছুটি নিয়ে পুকুরে সাঁতার কাটতে এসেছে।
এ সময় ইউএনও বিদ্যালয়ে ফোন করে জানতে পারেন, এই চার ছাত্রের কেউ ছুটি নেয়নি বা বিদ্যালয়ের কাউকে ছুটি দেওয়া হয়নি। এরপর তাদের সঙ্গে করে তিনি নিজ কার্যালয়ে এনে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাদের একজন জানায়, তাদের এক খালাতো বোনের বিয়ে দেখে তারা স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে এসে পুকুরে গোসল করে বিয়ের দাওয়াত খেতে যাচ্ছিল। তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেন ইউএনও। একই সঙ্গে এ সময় চার শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় আনতে বলেন।
ইউএনও জানান, পরে বিকেলের দিকে ওই শিক্ষার্থীরা অভিভাবকসহ তাঁর কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তারা স্বীকার করেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ছুটির দরখাস্ত অনুমোদনের কপি নিয়ে বের হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা প্রতিশ্রুতি দেন, এবারের মতো তাদের ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে তারা আর এ রকম করবে না। ইউএনও আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রত্যেককে অভিভাবকসহ ২০০টি করে গাছের চারা রোপণ করার শর্তে ছেড়ে দেন।
পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাশেদা খাতুন বলেন, দশম শ্রেণির ওই চার শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে বাইরে ঘুরতে গিয়েছিল। ইউএনওর চোখে ধরা পড়লে পরে ওই চার শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে আনা হয়।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমরা নিজেরাও এখন অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ছি। শিক্ষার্থীদের বেশি শাসন করতে গেলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে আমরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছি তাদের সঠিক পথে রাখতে।’
পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার এমন অনেক নজির আছে। ২১ জুন বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে ১৩১ জনের মতো শিক্ষার্থীর অনুপস্থিত পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে ২৩ জুন অভিভাবকদের ডেকে সমাবেশ করা হয়। এরপরও আবারও এমন দৃশ্য দেখা গেল। প্রথমবার হওয়ায় সামান্য এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পরে এ ধরনের অপরাধ করে ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।