বিএনপির প্রার্থী ও কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ, বিদ্রোহী প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে দুই মামলা

ভাঙচুরের শিকার বিএনপির কার্যালয়। রোববার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের ভালুকায়ছবি: প্রথম আলো

ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় বিএনপির দলীয় ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের বিদ্রোহী মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম ও তাঁর সমর্থকদের আসামি করে গত সোমবার রাতে দুটি মামলা করে বিএনপি–দলীয় প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের এক সমর্থক। আজ বুধবার মামলার বিষয়টি জানাজানি হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফখর উদ্দিন আহমেদের সমর্থক রুহুল আমিন বাদী হয়ে ২৬ জানুয়ারি রাতে মামলাটি করেন। এতে মোর্শেদ আলমকে প্রধান আসামি করে ১৩৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ। অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম।

২৫ জানুয়ারি উপজেলার বাটাজোড় এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলম বাধার মুখে পড়েন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর সমর্থকেরা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ধানের শীষের সমর্থকেরা ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ ছাড়া একটি ছাত্রদল নেতার কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। এসব ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে ওই ঘটনার পর ২৬ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলম। তিনি অভিযোগ করেন, একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, ‘এ অবস্থাকে কীভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলা যায়? পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।’

ভালুকা মডেল থানার ওসি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকেও ধানের শীষের প্রার্থীকে আসামি করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগে কিছু অসংগতি থাকায় সেগুলো ঠিক করে দিতে বলা হয়েছে। তারপর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।