আইনগত জটিলতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কিছুটা সময় লাগছে: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের ইচ্ছা থাকলেও আইনগত জটিলতার কারণে কিছুটা সময় লাগছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার বিকেলে রাজশাহী নগর ভবনের সিটি হলরুমে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা উচিত বলে সরকার মনে করে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের কারণে কিছু আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হচ্ছে। ওই অধ্যাদেশে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তর—সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অধ্যাদেশগুলো ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং বর্তমানে তা বিশেষ কমিটিতে আছে। এগুলো আইন হিসেবে পাস হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এলে দ্রুত নির্বাচনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, পাঁচটি স্তরের নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন সম্ভব নয়। অর্থ, ব্যয় ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তত দিন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পরিষদে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরাই দায়িত্ব পালন করবেন।
মতবিনিময় সভায় রাজশাহীকে ‘গ্রিন ও ক্লিন সিটি’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ আরও উন্নত করতে কাজ করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো বর্জ্য থেকে গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনকেও এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়াতে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই পাঠ্যক্রমে খেলাধুলার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্কুল ছুটির পর মাঠ খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। আরও বক্তব্য দেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহম্মেদ আল মঈন ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহজাহানপুরে নির্মাণাধীন একটি সেতু পরিদর্শন করেন।