জয়পুরহাটে ৬০ বিঘার জলমহাল ‘অমৎস্যজীবীদের’ ইজারা দেওয়ার অভিযোগ, মৎস্যজীবীদের মানববন্ধন
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় প্রায় ৬০ বিঘা আয়তনের কুজাইল দিঘি জলমহাল অমৎস্যজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সমিতির নামে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সামনে জাল নিয়ে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার মাদারপুর মালীপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা।
মানববন্ধনকারী মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, বাদাউচ্চ মধ্যপাড়া মৎস্য সমবায় সমিতির নামে কুজাইল দিঘি ইজারা দেওয়া হয়েছে। ওই সমিতির বেশির ভাগ সদস্য অন্য পেশায় জড়িত। সরকারিভাবে জলমহাল ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত জেলে ও মৎস্যজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি। এতে তাঁরা পেশাদার জেলেরা বঞ্চিত হয়েছেন।
দুপুরে মানববন্ধনের সময় জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া উপজেলা ভূমি কার্যালয় পরিদর্শনে এলে মৎস্যজীবীরা তাঁকে দিঘি ইজারা পাওয়া সমিতির অনিয়মের ব্যাপারে জানান। জেলা প্রশাসক তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
মাদারপুর মালীপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি অনিল চন্দ্র মালি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সমিতির সবাই প্রকৃত মৎস্যজীবী। আমরা দীর্ঘ দিন ধরে ৬০ বিঘার কুজাইল দিঘি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছি। এবার অনিয়ম করে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। ইজারার প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে সমিতির সদস্যদের পেশা ও ফিশারম্যান আইডি যাচাইয়ের দাবি করছি। যে সমিতির নামে ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেই সমিতির বিরুদ্ধে প্রমাণসহ উপজেলা জলমহাল ইজারা ব্যবস্থাপনা কমিটি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু অভিযোগ তদন্ত না করেই ওই সমিতির নামে দিঘিটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।’
তবে ইজারা পাওয়া বাদাউচ্চ মধ্যপাড়া মৎস্য সমবায় সমিতির এক সদস্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নিয়ম মেনেই সমিতি গঠন করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ইজারায় অংশ নেওয়া হয়।’
জলমহাল ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটির সভাপতি কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি সাড়া না দেওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আজ কালাই উপজেলা ভূমি কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানে দিঘির ইজারা বঞ্চিত ব্যক্তিরা মানববন্ধন করেছেন। আমাকে তাঁরা সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’