গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম (৬৩)। তিনি রাজশাহী মহানগরের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। গত ৩০ মে বিকেলে নুরুল ইসলামের পদ্মা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে তাঁর স্ত্রী নাজমা ইসলামের (৫৭) ঝুলন্ত লাশ সিলিং ফ্যান থেকে নামান ভবনের লোকজন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নগরের চন্দ্রিমা থানায় সেদিনই একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। ঘটনার তিন মাসের বেশি সময় পর এই দম্পতির ছেলে নাফিজ ইসলাম ফেসবুকে মায়ের হাতে লেখা সুইসাইড নোট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ছবি জুড়ে দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

অন্য নারীর সঙ্গে বাবার সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিন ধরে চালানো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তাঁর মা আত্মহত্যা করেছেন দাবি করে ৫ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন নাফিজ ইসলাম (২২)। পুলিশ মামলা না নিয়ে ঘোরাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছিলেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নেয়।

মামলার বাদী নাফিজ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষে পড়ছেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁর বাবা প্রায়ই তাঁর মাকে মারধর করতেন, মানসিকভাবে হেয় করতেন। তাঁর মা তাঁদের ভাই-বোনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সব সহ্য করে সংসার করে গেছেন। মূলত তাঁর বাবা নিজের সাবেক প্রেমিকাকে বিয়ে করতে না পারার কারণে তাঁর মায়ের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁকে মারধর করতেন। এসব ঘটনা তিনি ও তাঁর বোনের সামনে অসংখ্যবার ঘটেছে।

এজাহারে নাফিজ আরও উল্লেখ করেছেন, গত ৩০ মে তাঁর মা আত্মহত্যা করেন বলে তিনি শোনেন। তাঁর মায়ের গায়ে সেদিন আঘাতের চিহ্ন ছিল। এজাহারে তিনি মায়ের সুইসাইড নোটের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

নগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরান আলী বলেন, আজ নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন