২২ অক্টোবর খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে ২১ ও ২২ অক্টোবর খুলনায় সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলা বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের আলোচনা সভায় যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সমাবেশ সামনে রেখে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শামসুজ্জামান। তিনি বলেন, যশোরে গতকাল কোনো রকম ওয়ারেন্ট ছাড়া ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাগেরহাট থেকেও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শামসুজ্জামান আরও বলেন, বিএনপি নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কাজ করে। গণতন্ত্রের মুক্তির প্রত্যাশায় বিএনপি আন্দোলন করছে। বিএনপির চলমান আন্দোলন তো দলটির ক্ষমতায় বসার আন্দোলন নয়। সমাবেশ তো লড়াইয়ের জায়গা নয়। এটা নিয়ে সরকার কেন ভয় পাচ্ছে? এই আন্দোলন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে প্রতিবাদ, দলীয় কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ, খালেদা জিয়াকে মুক্তির দাবি জানানো। এখানে অন্য কোনো দাবি নেই।

বিএনপির যৌক্তিক আন্দোলনে কোনো বাধা সৃষ্টি না করার জন্য সরকার, শাসক দল, পুলিশ প্রশাসন, পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান শামসুজ্জামান দুদু। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন আর হরতাল ডাকি না। আমাদের সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করার জন্য সরকারই হরতাল ডাকে। আপনারা মানুষকে আসতে দিন, মানুষকে কথা বলতে দিন। মানুষকে সুস্থ একটি সমাবেশ দেখতে দিন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধকতা আছে, বিপত্তি হয়তো থাকবে। তবে বিএনপি এটা নিশ্চয়তা দিতে পারে। তারা রাজপথে আন্দোলন করছে ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ে। তাই জনগণই এই সমাবেশ সফল করবে।

সমাবেশের প্রধান সমন্বয়ক রকিবুল ইসলাম বলেন, সরকারের সময় শেষ হয়ে আসছে, তারা অসংখ্য ভুল করছে। তারই একটি দৃষ্টান্ত খুলনা শহরে শুরু হয়েছে। দুটি সমাবেশ দেখেছে, তাতেই তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে খুলনা অঞ্চলের সমাবেশ বানচাল করার জন্য কৃত্রিম পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে। যত বাধা বিপত্তি আসুক, পরিবহন ধর্মঘট দিয়ে মানুষকে আটকানোর চেষ্টা করুক, দেশবাসীর কল্যাণের জন্য যে আন্দোলন সূচিত হয়েছে, তা সফল হবে। পায়ে হেঁটে, নদীতে সাঁতরে হলেও সাধারণ মানুষ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা সমাবেশ সফল করবেন। আগের রাতেই সমাবেশস্থল পূর্ণ হয়ে যাবে।

খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম বলেন, নগরের সোনালী ব্যাংক চত্বরে ওই সমাবেশ করা হবে। তাঁরা সিটি করপোরেশন ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। উভয় সংস্থা মৌখিকভাবে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে। এই সমাবেশে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার লক্ষাধিক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ১৮টি উপকমিটি করে সমাবেশের প্রস্তুতির কাজ জোরেশোরে চলছে। নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও উপজেলায় কর্মিসভা, প্রস্তুতি সভা ও মিছিল করা হচ্ছে। ১৫ অক্টোবর থেকে জেলা ও উপজেলায় পাঁচ লাখ লিফলেট বিলি করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব শফিকুল আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান, সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।