ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুর পর এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোট ছয়জন নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। মনোনয়ন পান সাজেদার ছোট ছেলে শাহদাব। বাছাইকালে বাতিল হয়ে যায় দুজনের মনোনয়নপত্র।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জামাল হোসেন মিয়া ও জাতীয় পার্টির আলমগীর হোসেন মিয়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে শাহদাবকে খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী জয়নুল আবেদীনকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। শনিবার নৌকা ও বটগাছের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।

কে এই জয়নুল আবেদীন

জয়নুল আবেদীন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রঘুয়ারকান্দি গ্রামের মো. হারুন অর রশিদের ছেলে। পাঁচ ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি বড়। তিনি আরবি শিক্ষার পাশাপাশি এলএলবি পাস করেছেন। বর্তমানে ফরিদপুর জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা।

সালথার রাজনীতিসচেতন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জয়নুল আবেদীন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলের হয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তবে কখনো জয়ী হতে পারেননি। ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে ফরিদপুর-২ আসনে প্রথম নির্বাচন করেন। ২০০৮ সালে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি জেপির হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে প্রত্যাহার করে নেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬৫৭ ভোট পেয়েছিলেন।

‘গাইবান্ধার অভিজ্ঞতার পর কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে যা যা করা প্রয়োজন করবে’—অভিমত দিয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, জনগণের ভোটের অধিকারের দাবিতে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। এই প্রথম এলাকায় ইভিএমে নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রতি জনগণের আগ্রহ আছে। তিনি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান।

নৌকার প্রার্থী শাহদাব আকবর প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। আমি মনে করি, ফল আমার অনুকূলে আসবে। সংসদীয় আসনভুক্ত ১৮টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ করেছি। উপনির্বাচনে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে জনগণের অনীহা আছে। অনেকেই কেন্দ্রে আসতে চান না। তবে আমার বিশ্বাস, ভোটারদের উপস্থিতি ধারণার চেয়ে বেশি হবে।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ জন। ১২৩টি কেন্দ্রের ৮০৬টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। প্রতি তিন কেন্দ্রের বিপরীতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশন মনোনীত একজন ব্যক্তি নিয়োজিত থাকবেন।