মানুষকে হাঁটায় উৎসাহিত করতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার পথে ফাহিম

আজ বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ফাহিম মুনতাসিরছবি: প্রথম আলো

‘কালো ধোঁয়া আর নয়, হেঁটেই করব দূরত্ব জয়’—এই স্লোগান নিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার পথে হাঁটতে বের হয়েছেন ফাহিম মুনতাসির (২৫) নামের এক তরুণ।

প্রায় এক হাজার কিলোমিটারের এই পদযাত্রায় তিনি মানুষকে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করছেন। একই সঙ্গে জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বার্তাও দিচ্ছেন।

ফাহিম মুনতাসিরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে। ছোটবেলা থেকে হাঁটার অভ্যাস জানিয়ে তিনি দাবি করেন, এ জন্য তিনি যানবাহন খুব কম ব্যবহার করেন। চলাচলে নির্ভর করেন নিজের পায়ের ওপর।

স্কুলে পড়ার সময় থেকেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন ফাহিম। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক সংগঠন সোনালী সকালের সভাপতি। বিভিন্ন সময় প্রকৃতি সুরক্ষা ও জলাধার ভরাটবিরোধী নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন।

হাঁটাকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্য নিয়ে ১০ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে যাত্রা শুরু করেন ফাহিম। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে যাত্রাপথে গতকাল বুধবার বিকেলে পৌঁছান টাঙ্গাইল শহরে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সেখান থেকে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন।

হাঁটার মাধ্যমে জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বার্তাও দিচ্ছেন এই তরুণ
ছবি: প্রথম আলো

ফাহিমের ভাষ্য, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে যাত্রা শুরুর পর তিনি একই জেলার উখিয়া ও চকরিয়া, চট্টগ্রামের কেরানীহাট, পতেঙ্গা ও সীতাকুণ্ড, ফেনীর মহিপাল, কুমিল্লা শহর ও দাউদকান্দি, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, সাভারের জাহাঙ্গীরনগর ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর হয়ে মোট ১৩ দিনে টাঙ্গাইলে পৌঁছান।

২০ দিনের লক্ষ্য নিয়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পৌঁছাতে চেয়েছিলেন ফাহিম। তবে ধারণা করছেন, এর চেয়ে দু–এক দিন বেশি সময় লাগতে পারে।

হাঁটার গুরুত্বের বিষয়ে ফাহিম প্রথম আলোকে বলেন, একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ১০ হাজার কদম হাঁটা প্রয়োজন। এই পরিমাণ হাঁটলে মানুষ সুস্থ থাকতে পারবে। কিন্তু মানুষ অনেক বেশি যানবাহননির্ভর হয়ে যাচ্ছে। হাঁটার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছে। আর তাই বাড়ছে রোগবালাই। হাঁটতে উদ্বুদ্ধ করতেই তিনি এ পদযাত্রা শুরু করেছেন।

মানুষ অনেক বেশি যানবাহননির্ভর হয়ে যাচ্ছে। হাঁটার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছে। আর তাই বাড়ছে রোগবালাই। হাঁটতে উদ্বুদ্ধ করতেই তিনি এ পদযাত্রা শুরু করেছেন।
ফাহিম মুনতাসির

যাত্রাপথে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি জায়গায় থেমে থেমে মানুষের সঙ্গে হাঁটার উপকারিতা সম্পর্কে আলাপ করছেন ফাহিম। তাঁর দাবি, হাঁটার অভ্যাস করলে জ্বালানির ব্যবহার কমবে। এতে পরিবেশ রক্ষা হবে। জিরো কার্বনের স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে। পাশাপাশি জলাধার ভরাট এবং সাপের অভয়ারণ্য ধ্বংসের ক্ষতিকর দিক নিয়েও মানুষকে সচেতন করছেন তিনি।

চলতি পথে মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান ফাহিম। দুই–এক জায়গা ছাড়া প্রায় প্রতি জায়গাতেই তিনি বন্ধুবান্ধব বা পরিচিতজনের বাড়িতে রাত্রি যাপন করেছেন। সবাই তাঁকে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে দেশের ৬৪ জেলা হেঁটে ভ্রমণের পরিকল্পনা আছে তাঁর।

ফাহিমের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ জনসচেতনতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।