‘যৌতুক এনে না দেওয়ায়’ স্বামীর ছুরিকাঘাতে গৃহবধূ খুন

নরসিংদী জেলার মানচিত্র

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এক লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ায় নিজের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ভাগ্যেরপাড়ার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় আল রাব্বি (১৯) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিহত গৃহবধূ রত্না বেগম (১৮) একই এলাকায় মো. জাকির হোসেনের মেয়ে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাব্বিকে আসামি করে গতকাল রাতে পলাশ থানায় মামলা করেন রত্না বেগমের মা রুবি আক্তার।

পুলিশ ও নিহত গৃহবধূর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের পর সাত মাস আগে পারিবারিকভাবে রাব্বি ও রত্নার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই রাব্বি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মাদকের টাকা জোগাড় করে দিতে তিনি প্রায়ই স্ত্রী রত্নাকে মারধর করতেন। এ নিয়ে তাঁদের কলহ লেগে থাকত। গতকাল দুপুরেও বাবার বাড়ি থেকে রত্নাকে এক লাখ টাকা এনে দেওয়ার কথা বলেন রাব্বি। এ সময় টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে রত্নাকে মারধর করা শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে উত্তেজিত রাব্বি ঘরে থাকা একটি ছুরি দিয়ে রত্নার পেটে ও গলায় আঘাত করেন। এতে রত্না মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি। রত্নার চিৎকার শুনে প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন এসে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই গৃহবধূকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত রত্নার মা ও মামলার বাদী রুবি আক্তার বলেন, ‘তারা প্রেম করে বিয়ে করেছিল। মাদকের নেশা তাদের সংসারটা নষ্ট করে দিল। নেশা করার জন্যই এক লাখ টাকা আমাদের কাছ থেকে এনে দিতে বলেছিল রাব্বি। টাকা না এনে দেওয়ায় আমার মেয়েকে এভাবে খুন হতে হলো। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, আল রাব্বিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ তাঁকে নরসিংদীর আদালতে পাঠানো হবে।