‘শখ জাগছে, আপনারে জ্যাতা পুড়মু, আপনি কী কন’—ব্যবসায়ীকে বিএনপি নেতার হুমকি

বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন গাজী

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫২) নামের এক ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হুমকি দেওয়ার ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি কথোপকথন রেকর্ডের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির ওই নেতার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। তাঁর বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নে হলেও ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, ইউপি নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বিএনপি নেতা তাঁকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেন।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম ফরিদ উদ্দিন গাজী (৫০)। তিনি বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য। তাঁর বাড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামে। তিনি ইউপি নির্বাচন করার ঘোষণা না দিলেও তাঁর পছন্দের প্রার্থী আছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর গতকাল সন্ধ্যায় চেক প্রতারণার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল

ছড়িয়ে পড়া কথোপকথন রেকর্ডে ব্যবসায়ীকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে প্রথমে নিজের পরিচয় দেন ফরিদ উদ্দিন গাজী। এরপর ব্যবসায়ীর উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা নমো পুড়মু (পোড়াব), আপনারে বাইছা নিছি, এ ক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে? যদিও আপনারে সকালে খুঁইজা আইছিলাম, আপনি মনে হয় স্টেশনে (এলাকা) নাই।’ জবাবে ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা যায়, ‘না, না, নাই।’ এরপর ফরিদকে আবার বলতে শোনা যায়, ‘তো আপনার এতে মন্তব্য কী? জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি, আপনি কী কন? আপনার সুবিধার জন্য আমার ফোনালাপ রেকর্ড কইরা রাখলে এইটাও রেকর্ড কইরা রাখেন। আপনার মন্তব্য কী এ ক্ষেত্রে?’ জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার মন্তব্য কী থাকবে, আপনার মনে খুশি ধরছে, আপনি করেন।’

একপর্যায়ে ফরিদ গাজীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে নাগাদ?’ জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই যে আসব, আমু তো অবশ্যই। এলাকায় যেহেতু বাড়ি, আসব না? আসব।’ এরপর ফরিদ গাজীকে বলতে শোনা যায়, ‘তো খবরটা কী আপনি আমাকে দিবেন নাকি আমার খবর রাখা লাগবে?’ জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘আইলে তো মানুষ জানবেই, যেদিন আসব জানবে।’

জানতে চাইলে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর আগেও মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছিলেন ফরিদ গাজী। তখন ৫০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবিও করেছিলেন। তখনকার কথা তিনি রেকর্ড করতে পারেননি। তিনি বলেন, ফরিদ একজন সন্ত্রাসী। এ জন্য তিনি শঙ্কিত। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেছেন।

ফরিদ গাজী ঘটনার পরপরই অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) প্রথম আলোকে বলেন, ফরিদ গাজীর বিষয়ে তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না। জেলা বিএনপির নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাদের তদন্ত করে তাঁর (ফরিদ) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে জেলায় পাঠাতে বলা হয়েছে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবে জেলা বিএনপি।