সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ হোসেন বলেন, কীভাবে সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে থানা-পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, পিবিআই, সিআইডি ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার পর স্থানীয় বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা চলছে।

অস্ত্রোপচার শেষে দোকানমালিক অর্জুন চন্দ্র ভাদুড়িকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলার জমাদার বাজারে অর্জুন জুয়েলার্সের মালিক অর্জুন চন্দ্র ভাদুড়িকে কুপিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাতের দল। এ সময় ডাকাতদের ছোড়া বোমার আঘাতে শহীদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন পথচারী আহত হন।

জমাদার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহ জাহান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জমাদার বাজার এলাকায় সোনার দোকানে ফিল্মি স্টাইলে এ ধরনের ডাকাতি কখনো ঘটেনি। গতকাল দুপুরে অর্জুন ভাদুড়ির দোকানের ডাকাতির পর থেকে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিকেলে কিছু দোকান খুললেও লোকসমাগম না থাকায় সন্ধ্যার পর ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান।

আহত দোকানমালিক অর্জুন চন্দ্র ভাদুড়ির ভাই রতন চন্দ্র ভাদুড়ি বলেন, গতকাল রাতে চট্টগ্রামের অ্যাপোলো ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে তাঁর ভাই অর্জুন চন্দ্র ভাদুড়ির মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে অর্জুন ভাদুড়ির চিকিৎসার কাজে স্বজনেরা ব্যস্ত থাকায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও থানায় কোনো মামলা হয়নি।

উপজেলা জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন বলেন, উপজেলার জমাদার বাজারে দিনদুপুরে অর্জুন ভাদুড়ির দোকানে ডাকাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে আহত করার ঘটনায় আজ বিকেলে ফেনী শহরে জেলা জুয়েলার্স সমিতির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। প্রশাসনের অনুরোধে পরে তা স্থগিত করা হয়েছে। আজ দুপুরে জেলা ও উপজেলা জুয়েলার্স সমিতির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।