প্রাচীনকাল থেকে বাঙালির খাবারে বাড়তি স্বাদ ও ঘ্রাণের জন্য মসলা হিসেবে তেজপাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর তেজপাতার গাছ জন্মে। পাহাড়ি এলাকার প্রায় বাড়িতে এবং টিলায় তেজপাতার গাছ রয়েছে। সেখান থেকে তেজপাতা সংগ্রহ করে এনে শহরে বিক্রি করেন ইউসুফ। তাঁর বাড়ি উপজেলার হরিপুর গ্রামে।

ইউসুফ আলী জানান, কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ মাস তেজপাতার মৌসুম। এ সময় তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তেজপাতার গাছ থেকে পাতা পাইকারি দামে কেনেন। গাছের ছোট ডালসহ কাঁচা পাতা কেটে এনে এসব পাতা শুকানো ও বাছাইয়ের পর আঁটি করে ঘরে বস্তায় রাখেন। একেকটি গাছ থেকে ২০০–২৫০ আঁটি তেজপাতা পাওয়া যায়।

বছরের চার–পাঁচ মাস ইউসুফ আলী সিলেট শহরে তেজপাতা বিক্রি করেন। ইউসুফ জানান, এ মৌসুমে তেজপাতা বিক্রি করে তাঁর ভালো আয় হয়। দিনে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। তবে অন্য সময়ের তুলনায় শীতকালে তেজপাতার বেচাকেনা বেশি হয়।

ইউসুফ আলীর এক মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে স্থানীয় একটি কলেজে পড়ালেখা করছে। তিনি একসময় হরিপুর বাজারে চালের ব্যবসা করতেন। লোকসান হওয়ায় পাঁচ বছর আগে সেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। এখন সামান্য জমি আছে। সে জমি চাষ করে এবং তেজপাতা বিক্রি করে তাঁর সংসার চলে।

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করা ইউসুফ আলী বলেন, তেজপাতা বিক্রিতে এখন অনেকে ঝুঁকছেন। অনেকে বাগান করছেন। এখন ঢাকা থেকে পাইকারেরা এসে কেজি হিসেবে তেজপাতা কিনে নিয়ে যান। তিনিও গত বছর ২০টি তেজপাতার গাছ রোপণ করেছেন। এগুলোর বয়স চার বছর হলে পাতা কাটা যাবে। ৫০ বছর পর্যন্ত পাতা পাওয়া যাবে। একেকটি গাছে বছরে প্রায় ২০ কেজি করে পাতা পওয়া যায়।

ইউসুফ আলীর কাছ থেকে তেজপাতা কিনতে দেখা যায় নগরের সুবিদবাজার এলাকার বাসিন্দা ফরিদ মিয়াকে। তিনি বলেন, দোকানের তেজপাতা থেকে এসব তেজপাতার ঘ্রাণ বেশি, দামও সস্তা। তাই দেখেশুনে দুই আঁটি কিনেছেন।