মোটরসাইকেলের ট্যাংকি খুলে ফিলিং স্টেশনে আবদুল মজিদ
আবদুল মজিদ সরকারের মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নেই। তাই তিনি মোটরসাইকেলের ট্যাংকি খুলে নিয়ে ফিলিং স্টেশনে এসেছিলেন। তাঁর হাতে ট্যাংকি দেখে লোকজনের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার তালুকজামিরা গ্রামে আবদুল মজিদ সরকারের (৬০) বাড়ি। পেশায় তিনি নিকাহ রেজিস্ট্রার। গতকাল মঙ্গলবার তিনি মোটরসাইকেলের ট্যাংকি খুলে নিয়ে এসেছিলেন গাইবান্ধা শহরের আর রহমান ফিলিং স্টেশনে।
২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন আবদুল মজিদ সরকারকে নানা প্রশ্ন করছেন। উত্তরে তিনি বলছেন, ‘আর্শ্চয কথা, তেল নিতে তো গাড়ি আনতে হবে। কিন্তু আমার গাড়ি স্টার্ট করার মতো তেল নেই। ট্যাংকি খুলে নিয়ে আসা ছাড়া আমার আরও কোনো উপায় ছিল না।’
আজ বুধবার বিকেলে আবদুল মজিদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত খালি ট্যাংকি নিয়ে ওই ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করেছি। পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও আমার ভাগ্যে পেট্রল জোটেনি। পরে খালি ট্যাংকি নিয়ে বাড়ি ফিরে যাই।’
আবদুল মজিদ জানান, বাড়িতে ফিরে ৩০০ টাকায় একটি দোকান থেকে এক লিটার পেট্রল কিনেছিলেন। সেই তেল দিয়ে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেছেন, কিন্তু তেল পাননি।
আজ বিকেলে গাইবান্ধা শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের চালকদের দীর্ঘ সারি। পেট্রলের আশায় অনেকেই এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরছেন। যেসব পাম্পে পেট্রল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
শহরের পলাশবাড়ী সড়কের আর রহমান ফিলিং স্টেশনে আসা মোটরসাইকেলের চালক সাদুল্লাপুর উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম (৪০) বলেন, অনেকের মোটরসাইকেলে পেট্রল আছে। তবুও সংকটের আশঙ্কায় তাঁরা ট্যাংকি ভরে নিতে চাচ্ছেন। অনেক মোটরসাইকেলচালক পেট্রল নিয়ে পুনরায় লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। মজুতের চেয়ে সংকটের আশঙ্কাই তাঁদের মধ্যে বেশি কাজ করছে।
পাশের মেসার্স কাদির অ্যান্ড সন্স পাম্পে আসা ফুলছড়ি উপজেলা কঞ্চিপাড়া গ্রামের কলেকশিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘শহরের দু–একটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পেট্রল দেওয়া হয়। পেট্রল পেতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সকালে পেট্রল নিতে গেলে কলেজ যাওয়া হয় না। তাই দুপুরে ছুটি নিয়ে পাম্পে পেট্রল নিতে এসেছি। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে অপেক্ষা করছি, পেট্রল পাব কি না, তার নিশ্চয়তা নেই।’
এসব বিষয়ে মেসার্স কাদির অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক খোকন মিয়া বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের জ্বালানি তেলের সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পাম্পে পেট্রল দিতে পারছি না। পেট্রল এলে বিক্রি করব।’
ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার
জ্বালানি তেলের পাচার ঠেকাতে গাইবান্ধার ৭টি উপজেলার ২২টি ফিলিং স্টেশনে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সম্পর্কে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, সাতটি উপজেলায় ডিজেল, অকটেন ও পেট্রল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পাচার রোধে প্রতিটি পাম্পে একজন করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা পাম্পে তেলের মজুত, সরবরাহব্যবস্থা ও বিক্রয় কার্যক্রমে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
ফুয়েল কার্ড চালু হয়নি
পেট্রল ও অকটেন সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনার স্বার্থে মোটরসাইকেলের চালকদের জন্য ফুয়েল কার্ড করার ঘোষাণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু গাইবান্ধায় এখনো চালু হয়নি ফুয়েল কার্ড। জেলায় পেট্রলের দাবিতে সড়ক অবরোধ, খোলাবাজারে বেশি দামে পেট্রল বিক্রি ও জরিমানার মতো ঘটনা ঘটছে। একই মোটরসাইকেলচালক বারবার পেট্রল নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।