অবৈধ ইটভাটায় অভিযানের সময় হামলা, পরিবেশের কর্মকর্তাসহ আহত ৬
মাদারীপুরে অবৈধ ইটভাটায় অভিযানে গিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা হামলার শিকার হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার পাঁচখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তর ফরিদপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. সাইফুল ইসলাম, কম্পিউটার অপারেটর কাজী আবু আবদুল্লাহ, মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন, সদস্য মনিরুজ্জামন, জাহিদুল ইসলাম, এক্সকাভেটর মেশিনের চালক মো. রায়হান।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের ১১টি ইটভাটা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পরিচলনা করা হচ্ছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন হকের নেতৃত্বে একটি দল পাঁচখোলা এলাকার জেএসবি ব্রিকসে অভিযান চালায়। এ সময় জেএসবি ব্রিকসের মালিক সোবাহান ফকিরের নেতৃত্বে ভাটার কয়েক শ শ্রমিক পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে আহত হন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ ছয়জন আহত হন। এ সময় একটি এক্সকাভেটর মেশিন ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে সদর থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর পাঁচখোলা এলাকার জেএসবি ব্রিকস-৩, এআরজি ব্রিকস, খান ব্রিকস-৩, এএসবি ব্রিবস, জেএসবি ব্রিকস-২, আনোয়ান খান ব্রিকসে অভিযান চালিয়ে প্রত্যেককে আড়াই লাখ টাকা ও আমেনা ব্রিকসে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে মোট সাড়ে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন হক।
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেএসবি ব্রিকসে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হয়। এ অনিয়মের কারণে ভাটার চুল্লিতে পানি দিতে গেলে ভাটার শ্রমিকেরা আমাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। এতে আমিসহ আমাদের তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন।’
সদর থানা–পুলিশের উপপরিদর্শক বাচ্চু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, হামলা খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে ভাটার শ্রমিক বেশি হওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। হামলার নেতৃত্বে থাকা সোবাহান ফকির ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাঁকে পরে আর ভাটায় পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন হক প্রথম আলোকে বলেন, হামলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিডিসহ ছয় থেকে সাতজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্সকাভেটর দিয়ে অবৈধ ভাটাগুলো ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে এক্সকাভেটরের চালক আহত হওয়ায় ভাটাগুলো ভেঙে ফেলা সম্ভব হয়নি। তবে সাতটি ভাটাকে জরিমানার আওতায় নেওয়া হয়েছে।