কুড়িগ্রামে ফাঁড়ির ভেতর বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধ, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গংগাহাট সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বিজিবির এক সদস্যের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) গংগারহাট বিওপি থেকে তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
নিহত ব্যক্তির নাম নাসিম উদ্দিন (২৩)। তিনি ১৫ বিজিবির অধীন গংগারহাট বিওপিতে সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহ সদর থানায় এবং বাবার নাম বাবুল মণ্ডল।
এ ঘটনায় গংগারহাট বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার জাহাঙ্গীর হোসেন ফুলবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, গতকাল দিবাগত রাত তিনটার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে থানায় ফোন দেওয়া হয়। পরে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ওই বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে টহল ডিউটির উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে বিওপি থেকে বের হন সিপাহি নাসিম উদ্দিন। কিছু সময় পর বিওপির গ্যারেজের দিক থেকে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। টহলরত অন্য সদস্যরা দ্রুত সেখানে গিয়ে সৈনিক লাইনের পেছনে এমটি গ্যারেজের পাশে নাসিমকে গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাঁর বুকে গুলির ক্ষতচিহ্ন ছিল। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাসিমকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর বুকে গভীর ক্ষত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে নাসিমের এক সহকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নাসিম স্বাভাবিকভাবেই ডিউটি করছিলেন। তাঁর আচরণে আগে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ করিনি। ঘটনাটি আমাদের সবাইকে স্তব্ধ করেছে।’
এ বিষয়ে জানতে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধিনায়ক (সিও)-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে গংগারহাট বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সিপাহী নাসিম উদ্দিন প্রতিদিনের মতো ডিউটির জন্য অস্ত্র নিয়ে বের হয়েছিলেন। পরে গুলির শব্দ শুনে অন্য সদস্যরা গিয়ে নাসিমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন।
জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, নিহত বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ নেই। ঘটনার আগের দিনও তিনি স্বাভাবিক ছিলেন।