সম্মেলনে সিলেট জেলা বিএনপি নেতা আ ফ ম কামাল হত্যা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা–কর্মী তাঁদের বক্তব্যে বলেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এই নেতাকে নিজেরাই হত্যা করেছে বিএনপি। বক্তব্যে রাতে বিএনপির মিছিল থেকে কবি নজরুল অডিটরিয়ামে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলনের তোরণ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ করেন এবং এর নিন্দা জানান তাঁরা।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘বিএনপি–জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে অতীতে কী করেছে, সবই দেখছেন। সামনে তারা ক্ষমতায় আসতে পারলে বোমাবাজি, হত্যা, খুন ও জ্বালাও–পোড়াওয়ের রাজনীতি দ্বিগুণ করবে। তাই দেশকে তাদের হাত থেকে বাঁচিয়ে নিরাপদে রাখতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত হয়ে শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় বসাতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব আমাদের ১০ ডিসেম্বরে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ কি এত ঠুনকো দল যে হুমকি–ধমকিতে লেজ গুটিয়ে পালাবে। বিএনপির সব ষড়যন্ত্র ছিন্নভিন্ন করে আওয়ামী লীগ রাজপথ নিজেদের দখলে রাখবে।’

সিলেটে বিএনপি নেতা আ ফ ম কামাল হত্যার বিষয় উল্লেখ করে সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘সিলেটে বিএনপি নিজেদের কোন্দলে নিজেরাই এক নেতাকে খুন করেছে। এরপর রাতে তারা মিছিল দিয়ে আসছিল আমাদের সম্মেলনস্থল ভাঙচুর করতে। খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা বিভিন্ন দিক থেকে ঝড়ের বেগে ছুটে এসেছেন। এরপর কিছু সময়ের মধ্যে লেজ গুটিয়ে তারা পালিয়ে যায়। আমাদের ঐক্য দেখলে বিএনপি মাঠে নামার সাহস পাবে না।’

যুক্তরাষ্ট্রকে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখে এসে বাংলাদেশকে সবক দেওয়ার কথা উল্লেখ করে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ ৩৭৬ জনকে বিনা বিচারে মেরেছে। আর আমাদের দেশে এ সময় একজন লোককেও বিনা বিচারে মারা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। এ সময়ে আমাদের দেশে নিখোঁজ হয়েছেন মাত্র তিনজন লোক।’

সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবাইকে সামনের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের সামনে কোনো পরাশক্তি, দেশদ্রোহী শক্তি দাঁড়ানোর সাহস পাবে না। সিলেটে বিএনপি আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থল ভাঙচুর করতে এসে প্রথম টেস্ট কেস হিসেবে এই শক্তি দেখে পালিয়ে গেছে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন খানের সঞ্চালনে সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মুশফিক হোসেন চৌধুরী, আজিজুস সামাদ ও সায়েম খান, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ ও ৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান।