ফেনীতে প্রার্থীর সমর্থনে মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর, মনোনয়নপত্র বাতিল

ফেনীতে প্রার্থীদের যাচাই–বাছাই সম্পন্ন করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। আজ দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষেছবি : প্রথম আলো।

ফেনীতে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থনে মৃত ব্যক্তির সই পাওয়া গেছে। এ কারণে ওই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। আজ রোববার দুপুরে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ওই প্রার্থীর নাম খালেদ মাহমুদ। তিনি যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক। নির্বাচনে তিনি ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনে স্বতন্ত্র হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করে মৃত ব্যক্তির নাম পায় নির্বাচন কমিশন।

অবশ্য শুধু খালেদ মাহমুদ নন, বিভিন্ন ত্রুটির কারণে জেলার ৩ আসনের ১২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মৃত্যর কারণে স্থগিত করা হয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নির্বাচনী কার্যক্রমও।

যাচাই-বাছাই শেষে ফেনী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, ৩টি আসনে ১২টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ আসনগুলোতে বৈধ মনোনয়নপত্র ২২টি। নির্বাচনী বিধি মোতাবেক সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত

মৃত্যুর কারণে ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ফেনী-১ আসন থেকে খালেদা জিয়াসহ ১০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে বৈধ হয়েছে ছয়জনের, বাকি তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, ম্যাডাম খালেদা জিয়া প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সাবমিট করেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের কারণে মনোনয়নপত্রটি যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এটির কার্যক্রম স্থগিত।

এ আসন থেকে মনোনয়ন বাতিল হওয়া তিনজন হলেন খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নাজমুল আলম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ নাজমুল আলমের আয়কর রিটার্নের কপি জমা না দেওয়া, মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরীর ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করা এবং নিজাম উদ্দিনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক মুন্সি রফিকুল আলম ওরফে মজনু, জামায়াতে ইসলামের এস এম কামাল উদ্দিন, জাতীয় পার্টির (জি এম কাদের) মোতাহের হোসেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের কাজী গেলাম কিবরিয়া, খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্লাহ ভূঞা এবং মুসলিম লীগের মাহাবুব মোর্শেদ মজুমদার।

এদিকে ফেনী-২ (সদর) আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে মনোনয়ন নিয়েছিলেন ১৪ জন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এয়াকুব নবী ভূঞা এবং কানাডা (পশ্চিম) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী। তাঁদের ভোটারদের ১ শতাংশ স্বাক্ষরে ত্রুটি ছিল। একই কারণে এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইলের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী তাহেরুল ইসলামের এবং আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ ভূঞার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপি মনোনীত দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ওরফে ভিপি জয়নাল, জামায়াত সমমনা জোটের প্রার্থী আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ওরফে মঞ্জু, জেএসডির শামসুদ্দিন মজুমদার, বাসদের (মার্ক্সবাদী) জসিম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা, খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন, গণ অধিকার পরিষদের মো. তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, খেলাফত মজলিসের মোস্তাফিজুর রহমান এবং আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার।

অন্যদিকে খালেদ মাহমুদ ছাড়াও ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসন থেকে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তাঁরা হলেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাহবুবুল হক, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আলী এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. হাসান আহমদ।

এ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন বিএনপি মনোনীত দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, জামায়াতে ইসলামের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন, জাতীয় পার্টির (জি এম কাদের) মো. আবু সুফিয়ান, ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইফ উদ্দিন, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. আবু নাসের, জেএসডির আবদুল মালেক, খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান পাটোয়ারী।