সেন্ট মার্টিনে তিন দিনে রোপণ করা হবে ২০ হাজার চারা, প্লাস্টিক ও দূষণমুক্ত রাখার আহ্বান
কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আগামী তিন দিনে ২০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এ দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গাছগুলো ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে দ্বীপটিকে প্লাস্টিক ও দূষণমুক্ত রাখতে দ্বীপবাসীকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মধ্যভাগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কার্যালয় মাঠে নারকেলের চারা রোপণের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় ৮ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত দ্বীপে ২০ হাজার চারা রোপণ করা হবে।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এ দ্বীপের জীববৈচিত্র্য, প্রবাল, শৈবাল, শামুক-ঝিনুকসহ বিভিন্ন প্রাণ ও উদ্ভিদ রক্ষায় সরকার আন্তরিক। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে রোপণ করা চারাগুলো রক্ষা করতে হবে।
রোপণ করা চারার মধ্যে রয়েছে আম, পেয়ারা, বহেরা, হরীতকী, নিম, বাতাবিলেবু, কুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, জারুল, সাগরলতা, হরগোজা, কেয়া ও নারকেল।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, এনরুট ফাউন্ডেশন ও বিজিএসের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির পাশাপাশি সেন্ট মার্টিনে সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলছে।
বৃক্ষরোপণ শেষে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সমুদ্রসৈকতে যান। সেখানে বালুচরে পড়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, ক্যানসহ বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন তাঁরা।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘উত্তাল বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে আমি প্রথমবারের মতো সেন্ট মার্টিন এলাম প্লাস্টিকমুক্ত, দূষণমুক্ত সেন্ট মার্টিন চাই বলে। আপনারা এই দ্বীপের বাসিন্দা। ঘূর্ণিঝড়, দুর্যোগেও আপনারা দ্বীপ ছেড়ে কোথাও যান না। এই দ্বীপকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনাদের বেশি। প্লাস্টিক ও দূষণমুক্ত রাখা না গেলে এই দ্বীপকে বাঁচানো যাবে না।’
এর আগে বেলা পৌনে দুইটার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে যান তিনি। বিকেল চারটার দিকে কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে কাঠের ট্রলারে করে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বিকেল পাঁচটার দিকে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় তীব্র হচ্ছে। এসব বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সেন্ট মার্টিনও এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এনরুট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. তারিকুল হক, হেড অব প্রোগ্রাম জুবায়ের ইবনে হাসনাত, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার এরিয়া ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক, ম্যানেজার লাইভলিহুড মোহাম্মদ রুহুল আমিন, উখিয়া উপজেলা কো-অর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়া, কোস্টগার্ডের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ জানিয়েছে, গত তিন বছরে সারা দেশে তারা ৩২ লাখ গাছের চারা রোপণ করেছে। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করতে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে আরও ৭৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ২০২৬ সালে কক্সবাজার জেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০টি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফে ৬৫ হাজার, উখিয়ায় ৬২ হাজার, রামুতে ১৩ হাজার ৮৭০ ও কক্সবাজার সদরে ১০ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হবে।
রাত সেন্ট মার্টিনে অবস্থানের পর আগামীকাল রোববার সকালে দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা ও জীববৈচিত্র্য পরিদর্শন শেষে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে টেকনাফ ফেরার কথা রয়েছে প্রতিমন্ত্রীর।