সাংগ্রাইং উদ্‌যাপন নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব নিরসন, উৎসব হবে দুটি স্থানে

বান্দরবানে সাংগ্রাইং উপলক্ষে আয়োজন করা হয় মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসবেরফাইল ছবি

বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাইং উৎসব আয়োজন নিয়ে দুটি পক্ষের দ্বন্দ্বের নিরসন হয়েছে। জেলার দুটি স্থানে পৃথকভাবে আজ শুক্রবার উৎসব উদ্‌যাপন করবে দুটি পক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

বান্দরবান জেলা শহরে একটি কেন্দ্রীয় উদ্‌যাপন কমিটির মাধ্যমে সাংগ্রাইং উৎসব হয়ে আসছে। সরকার বদল হলেই সচরাচর কমিটি বদল হয়ে থাকে। তবে বান্দরবানে বিএনপির দুটি পক্ষের কোন্দলকে কেন্দ্র করে এবার দুটি উদ্‌যাপন কমিটি হয়েছে। দুটি কমিটিই একই স্থানে উৎসবের আয়োজন করতে চাওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়।

দুটি কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমঝোতা অনুযায়ী নতুন গঠিত হওয়া উদ্‌যাপন কমিটি শহরের রাজারমাঠে এবং পুরোনো কমিটি উজানীপাড়ার সাঙ্গুনদের পাড়ে উৎসব আয়োজন করবে। দুটি কমিটি পরস্পরকে উৎসব আয়োজনে সহায়তা করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি উৎসবের নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে দুটি কমিটিই শহরের রাজারমাঠে পাল্টাপাল্টি উৎসব আয়োজনের ঘোষণা দেয়। বিষয়টি নিয়ে শুরুতে দুই পক্ষ একাধিকার বৈঠক করেও ঐকমত্যে আসতে ব্যর্থ হয়। উৎসব আয়োজন নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের মধ্যে এ বিষয়ে সুরাহা করার জন্য পরে মানবাধিকারকর্মী অং চ মং মারমার নেতৃত্বে মারমা জনগোষ্ঠীর কিছু গণমান্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তাঁরা বিষয়টি সুরাহা করেন।

অং চ মং মারমা প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল সকালে চ নু মং মারমার নেতৃত্বের পুরোনো কমিটির নেতাদের সঙ্গে সুশীল সমাজের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে দুটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পুরোনো উদ্‌যাপন কমিটির নেতাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথম প্রস্তাব হচ্ছে, পুরোনো কমিটি এবার সাংগ্রাইং উৎসব আয়োজন থেকে বিরত থাকবে, দ্বিতীয়টি হলো আলাদা স্থানে উৎসব আয়োজন করবে। তারা দ্বিতীয় প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, চ নু মং মারমার নেতৃত্বাধীন উদ্‌যাপন কমিটি পৃথক স্থানে উৎসব আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সবার অস্বস্তি কেটে গেছে। বিষয়টি নিয়ে বোমাং চিফের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। এখন সবার পারস্পরিক সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ উৎসব হবে, সেটিই সবাই চায়।