তদন্তের ফল জানার অপেক্ষা

গতকাল শনিবার সকালে ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অন্তত ৫৫ ভোটারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের তদন্ত গত বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয়েছে। কমিটি আগামীকাল সোমবার কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে, ভোটাররা এখন সেই ফলাফল জানার অপেক্ষায় আছেন। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ২০ জানুয়ারির মধ্যে আবার ভোট গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।

উপনির্বাচনে ইভিএম এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করেও নির্বাচন করা যেত।
সাখাওয়াত হোসেন, কঞ্চিপাড়া এলাকার শিক্ষক

এদিকে ডিসি-এসপিসহ বক্তব্য নেওয়া উপনির্বাচন–সংশ্লিষ্ট ৬২২ জনের বেশির ভাগই কমিটিকে সুষ্ঠু ভোট হওয়ার কথা বলেছেন। ভোট সম্পন্ন হওয়া কেন্দ্রগুলোর ফলাফল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী। তবে অনিয়মের কথা বলেছেন অন্য চার প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্টরা।

ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এলাকার শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপনির্বাচনে ইভিএম এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল। অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করেও নির্বাচন করা যেত। ভোট মানেই ব্যালট ছিনতাই, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, কেন্দ্রের সামনে মিছিল ও প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও ছোটখাটো ঘটনা। এটাই এ দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতি। এবারের ভোটে এসবের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এখানে সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখে নির্বাচন বন্ধ করার নজির সৃষ্টি হলো। এ অবস্থায় তদন্তে কী পাওয়া গেল, সেগুলো স্থানীয় ভোটাররা জানতে চান।

* ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গাইবান্ধা-৫ আসন গঠিত। * আগামী বছরের ২০ জানুয়ারির মধ্যে আবার ভোট গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে ইসি

গতকাল শনিবার সকালে ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্ন পেশার অন্তত ৫৫ ভোটারের সঙ্গে কথা হয়। উপনির্বাচন বন্ধ হওয়ায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে উল্লেখ করে ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী এলাকার সংস্কৃতিকর্মী আমিনুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দাবি অনুযায়ী, স্থগিত করা ৫১টি কেন্দ্রে নির্বাচন হবে, নাকি পুরো আসনে হবে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না।

ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এ টি এম রাশেদুজ্জামান বলেন, ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গাইবান্ধা-৫ আসন গঠিত। এর মধ্যে দুই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের ওপারে অবস্থিত। সেসব জায়গায় নৌকায় করে যেতে দুই-আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। সেখানকার মানুষ তথ্যপ্রযুক্তি থেকে পিছিয়ে। এ ছাড়া চরাঞ্চলের ভোটাররা আগে কখনো ইভিএমে ভোট দেননি। ইভিএমে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া শেখার জন্য কোথাও উঠান বৈঠক বা প্রদর্শন করা হয়নি। সহযোগিতা নিতে অনেক ভোটার স্বজনদের গোপন কক্ষে নিয়ে গেছেন ও ইসি সিসিটিভি ক্যামেরায় গোপন কক্ষে অনিয়ম দেখেছেন। এ নিয়ে তদন্ত হয়েছে। এখন কমিশনের সিদ্ধান্ত জানতে ভোটাররা অপেক্ষা করছেন।

১২ অক্টোবর সকাল ৮টায় উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। দুপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চারজন ভোট বর্জন করেন। এরপর সিসিটিভি ক্যামেরায় অনিয়ম দেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) প্রথমে ৪৪টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন এবং পরে উপনির্বাচন বন্ধ করেন। অনিয়মের তদন্তে ১৩ অক্টোবর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথকে আহ্বায়ক, যুগ্ম সচিব মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরীকে সদস্যসচিব এবং যুগ্ম সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাসকে সদস্য করে তিন সদস্যের কমিটি করে নির্বাচন কমিশন। সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল এ কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার না হলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না। জেলা বিএনপির সভাপতি মইনুল হাসান সাদিক বলেন, উপনির্বাচন বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করাটাই ক্রেডিট। সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নিরপেক্ষ ইসি ও নিরপেক্ষ মাঠ প্রশাসন।

উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচ প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের মাহমুদ হাসান, জাতীয় পার্টির (জাপা) গোলাম শহীদ, বিকল্পধারার জাহাঙ্গীর আলম, স্বতন্ত্র নাহিদুজ্জামান ও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। এখানকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী গত ২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।