নান্দাইলে ইজিবাইকে বাসের ধাক্কা, মাদ্রাসার শিক্ষকসহ দুজন নিহত

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বাসের চাপায় দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা। আজ বেলা ১১টার দিকে হাইওয়ে থানা চত্বরে
ছবি: প্রথম আলো

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ইজিবাইকের দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল উপজেলার উত্তর মুশুলি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ইজিবাইকের আরও এক যাত্রী।

দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন নান্দাইলের চপই দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক সাইফুল ইসলাম (৩৭) ও ধরগাঁও গ্রামের আলীম উদ্দিনের মেয়ে বৃষ্টি আক্তার। ঘটনাস্থলেই সাইফুলের মৃত্যু হয়। আর বৃষ্টি মারা যায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে। বৃষ্টি নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বাঁ পাশ থেকে ডানে গিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই সাইফুল ইসলাম মারা যান। গুরুতর আহত হয় বৃষ্টি আক্তার ও তার সহপাঠী সানজিদা। তাদের কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃষ্টি আক্তার মারা যায়।

অটোরিকশাটিকে চাপা দেওয়া বাসের যাত্রী ছিলেন মো. নাইম মিয়া (২৪)। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাসটি চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী। অভিজ্ঞ চালক হলে সড়কে থাকা গতিরোধকগুলোর সামনে এসে বাসের গতি কমিয়ে ফেলতেন। কিন্তু বাসটি কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের দিকে আসার পর থেকে প্রচণ্ড গতিতে গতিরোধকগুলো অতিক্রম করেছে।

দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের পাশে এক পাটি জুতা ও ভাত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। নান্দাইল হাইওয়ে থানার পুলিশ সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। থানায় নিহত মাদ্রাসাশিক্ষকের স্বজনেরা ভিড় করেছেন।

নিহত সাইফুল ইসলামের সহকর্মী চপই দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মঞ্জিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, সাইফুলের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামে। তিনি প্রতিদিন বাইসাইকেলে করে বাড়ি থেকে নান্দাইল চৌরাস্তা পর্যন্ত আসতেন। সেখানে পরিচিতজনের কাছে সাইকেলটি রেখে অটোরিকশায় করে কর্মস্থলে যেতেন। যাতায়াতের সমস্যার কারণে তিনি কিশোরগঞ্জ শহরে বাসা ভাড়া করেছিলেন। ১ সেপ্টেম্বর নতুন বাসায় ওঠার কথা ছিল তাঁর।

নান্দাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলেই মাদ্রাসাশিক্ষকের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃষ্টি আক্তার মারা যায়। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।