সিটি করপোরেশনের উল্লেখযোগ্য ওয়ার্ড ১৬ নম্বর। এ ওয়ার্ডের মধ্যে রংপুর নগরের ধাপ, কেল্লাবন্দ, ধাপ হাজিপাড়া, বিজিবি এলাকা, ধাপ জেল রোড, রঘুনাথগঞ্জ, ধাপ পুলিশ ফাঁড়ি। এসব এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সেই সঙ্গে একাধিক স্কুল ও কলেজ আছে। রয়েছে বড় বড় শপিং মল ও খাবারের দোকান। দিনভর এসব এলাকার রাস্তা রিকশা, অটোরিকশাসহ মানুষের চলাচলে ব্যস্ত থাকে।

দিনভর এসব এলাকার রাস্তা রিকশা, অটোরিকশাসহ মানুষের চলাচলে ব্যস্ত থাকে। আছে স্কুল–কলেজসহ নানা প্রতিষ্ঠান।
মনজুর আহমেদ, বাসিন্দা

১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান বলেন, ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত কাজ করা হয়েছে। রাস্তা ও নালা নির্মাণ করা হয়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে যতটুকু উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব, ততটুকু করা হয়েছে। আবারও নির্বাচিত হলে অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করা হবে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, মেডিকেল মোড় থেকে নগরের দিকে যেতে সড়কটির দুই পাশে গাড়ি পার্ক করা। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। নেই কোনো রিকশাস্ট্যান্ড। সড়কের মধ্যে রিকশা ও অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে। নগরের কেল্লাবন্দ এলাকায় মহাসড়কের পাশে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং সড়ক ঘেঁষে বাজার। ফলে সেখানে সব সময় মানুষের আনাগোনা থাকে।

ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম (স্বতন্ত্র) বলেন, নাগরিক সুবিধা বাড়াতে যা যা করা দরকার, তা-ই করা হবে। মেডিকেল মোড়ের পাশে মহাসড়কের ওপর বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

পার্বতীপুর, পীরজাবাদ, রামপুরা, ধাপ কটকিপাড়া, ধাপ পাশারিপাড়া, সাতগাড়া, ভগিবালাপাড়া এলাকা নিয়ে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ রাস্তা পাকা। সড়কবাতিও আছে। নালা নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এই এলাকার একটি অংশে আর কে রোডের টেক্সটাইল মোড় থেকে ধাপ চেকপোস্ট পর্যন্ত সড়কে দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক দ্রুত গতিতে চলছে। গাড়ির গতি কমিয়ে কোয়ার্টার কিলোমিটার সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ, রিকশা ও অটোরিকশাচালক।

পর্যটন মোটেলের পেছনে রামপুরা এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আল আমিন বলেন, আগে এই এলাকায় বসতবাড়ি কম ছিল। ফলে এ এলাকায় নতুন নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে। এই এলাকা থেকে বের হয়ে প্রধান সড়ক আর কে রোডে উঠতে হয়। কিন্তু নগরের ভেতর মহাসড়কে চলাচল দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই ট্রাফিকব্যবস্থা জোরদার করা দরকার।

১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল গাফফার বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে সাধ্যমতো উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। অধিকাংশ রাস্তা পাকা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পয়োনিষ্কাশন নালাও নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কবাতিও পর্যাপ্ত। সিটির ট্রাক দিয়ে বর্জ্য অপসারণ করা হয় নিয়মিত।’

এ ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, নতুন নতুন বাড়িঘর নির্মাণ হওয়ায় বর্ষাকালে কিছু এলাকায় পানি জমে যায়। পুরো এলাকার পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা দূর করতে পরিকল্পনামাফিক কাজ করে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

মুন্সিপাড়া, সাতগাড়া মিস্ত্রিপাড়া, মণ্ডলপাড়া, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, কেরানীপাড়া এলাকা নিয়ে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড। এসব এলাকার মধ্যে সাতগাড়া, মিস্ত্রিপাড়ার সড়কগুলো তুলনামূলকভাবে সংকুচিত। পাশাপাশি দুটি গাড়ি চলাচলে অসুবিধা হয়। এ ছাড়া প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত নালা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান সড়ক ছাড়াও অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো পাকা হয়েছে। সড়কবাতিও পর্যাপ্ত।

১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর (স্বতন্ত্র) মুনতাছীর শামীম বলেন, নাগরিক সুবিধা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। প্রধান রাস্তা পাকা হয়েছে। সেই সঙ্গে অলিগলির রাস্তাও কংক্রিটের ঢালাই হয়েছে। পুনরায় নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন।

ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মাসুদ রানা বলেন, ‘আমার এলাকা সাতগাড়া মিস্ত্রিপাড়ায় তুলনামূলকভাবে উন্নয়নমূলক কাজ কম হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে মূল সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করব।’