৬২ বছর বয়সী গৌতম কুমার সাহা মশিদপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের একজন ক্ষুদ্র কৃষক। স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার। বসবাস করেন খড়ের ঘরে।

বহু বছর আগে বাজারের একটি দোকানে টেলিভিশনে দেখেছিলেন, তালগাছ মানুষকে বজ্রপাত থেকে রক্ষা ও মাটির ক্ষয় রোধ করে। এর পর থেকে প্রতিবছর ভাদ্র মাসে তালবীজ সংগ্রহ করে বাড়িতে জড়ো করতে থাকেন গৌতম সাহা। পরে সেগুলো ব্যাগে ভরে সড়কের পাশে রোপণ করেন।

গৌতম সাহাকে একজন সাদা মনের মানুষ মনে করেন শিশা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রকৃতি রক্ষায় নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি, যা সত্যিই নজিরবিহীন।

২০১২ সালের দিকে নিজের বাড়ির পাশের শিশা-দেউলিয়া সড়কের কোলাপাড়া থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত দেড় কিলোমিটারজুড়ে প্রায় এক হাজার তালবীজ রোপণ করেন গৌতম সাহা। সেগুলো বড় হতে শুরু করলে তাঁর উৎসাহ বেড়ে যায়। পরে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের শিশা-দেউলিয়া সড়কের দুই পাশেও তালবীজ রোপণ করেন।

এ ছাড়া মহাদেবপুর-পোরশা এবং শিশা-মোল্লাপাড়া সড়কের দুই পাশে ১৫ কিলোমিটারজুড়ে তালবীজ লাগিয়েছেন গৌতম সাহা। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি তালবীজ রোপণ করেছেন। এর মধ্যে বেঁচে যাওয়া গাছের সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার।

শুরুর দিকে নিজেই ঘুরে ঘুরে তালবীজ সংগ্রহ করতেন গৌতম সাহা। একপর্যায়ে ‘চার আঁটিতে এক টাকা’ করে দেওয়ার ঘোষণা দিলে গ্রামের শিশু-কিশোরেরা আগ্রহী হয়ে তাঁকে তালবীজ দিতে শুরু করে। এভাবে বস্তায় ভরে নিজের সাইকেলে করে তালবীজ এনে সড়কে দুই পাশে রোপণ করতে থাকেন। এখনো এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার বলেন, ‘খাস জায়গায় তালগাছ রোপণ করে প্রকৃতি সুরক্ষা ও বজ্রপাত নিরোধে ভূমিকা রাখায় কৃষি পদকের জন্য গৌতম সাহার তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন সাবেক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তিনি ‘‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৫’’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। আমরা তাঁর পাশে সব সময় আছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন