বগুড়ায় একটি কেন্দ্রে পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে নতুন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ

বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফ্ফর হোসেন কলেজফাইল ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি মোজাফ্ফর হোসেন কলেজ (এম এইচ কলেজ) কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের অবহেলায় গত বছরের সিলেবাসের (অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য তৈরি) প্রশ্নপত্রে এ বছরের নিয়মিত ৪২ জন পরীক্ষার্থীর যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা গ্রহণ শেষে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে লিখিতভাবে প্রতিবেদন পাঠানোর পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে কলেজ পরিদর্শক মাহবুব আলমকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা আগামীকাল বৃহস্পতিবার শিবগঞ্জ  সরকারি এম এইচ কলেজ কেন্দ্রে সরেজমিন তদন্তে আসছেন বলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বুধবার এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়। তবে যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় ১০৭ নম্বর কক্ষে প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে গত বছরের পুরোনো সিলেবাসের ৪২টি প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কেন্দ্রসচিবের নজরে আনেন।

পরে কেন্দ্রসচিবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, কক্ষ পরিদর্শকের অসাবধানতাবশত ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। যদিও একই কেন্দ্রে অন্য কক্ষগুলোতে ২০২৬ সালের সঠিক প্রশ্নপত্রই বিতরণ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে ভুলবশত সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রসচিব স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় শিক্ষা বোর্ডের কাছে বিষয়টি মানবিক ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আবেদন জানানো হয়।

এ বিষয়ে কেন্দ্রসচিব এবং শিবগঞ্জ সরকারি এম এইচ কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আসাদ প্রথম আলোকে বলেন, এই কেন্দ্রে যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রে ১০৭ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন। পুরোনো সিলেবাসের পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭ জন। এর মধ্যে ১০৭ নম্বর কক্ষে ৭ জন পুরোনো সিলেবাসের পরীক্ষার্থীসহ ৫০ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। কেন্দ্রের পরীক্ষা কমিটির সদস্যদের ভুলে পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে নতুন সিলেবাসের পরীক্ষার্থী ছিল ৪২ জন। এমন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ শেষে বিষয়টি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কাছে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফ্ফাত জেরীন রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ওই ঘটনায় বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কলেজ পরিদর্শক মাহবুবুল আলমকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে প্রশ্নপত্র বিতরণে গাফিলতিতে কারা জড়িত, তা সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।