ওই বাসার নিচতলার কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁরা কেউ রিক্তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেননি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়। এ সময় ওই কক্ষ থেকে শোরগোল শুনে তাঁরা সেখানে গিয়ে রিক্তাকে বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। সেখানে রিক্তার স্বামী আবদুল্লাহ ইশতিয়াক ও আলামিন নামে তাঁর এক বন্ধুকে দেখতে পান। আলামিন তাঁদের জানান, রিক্তায় গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তিনি রিক্তার গলা থেকে ওড়না খুলেছেন। এরপর রিক্তাকে রিকশায় করে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাতে ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশের একজন সদস্য প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ওই কক্ষে একটি ছোট বিছানা রয়েছে। বিছানার পাশেই গ্রিলের জানালা। জানালার এক পাশে চেয়ার রাখা। চেয়ারে কিছু জিনিসপত্রও ছিল। সেগুলো পড়েনি। স্বামী নাকি ওই কক্ষেই তখন ঘুমাচ্ছিলেন। পুলিশ নানা রকম বিষয় ধরে তদন্ত করছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি হাসিবুল আলম প্রধান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ঘটনা শুনে রাতেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তাঁরা এই ঘটনায় শোকাহত। এ বিষয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। তাঁরা চান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, তিনি ঘটনা শুনে সকালে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের আগে নিশ্চিত বলা সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

এ দিকে রিক্তা আক্তারের মৃত্যুর পর তাঁর ও তাঁর স্বামীর পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীতে এসেছেন। রিক্তা আক্তারের বাবা লিয়াকত জোয়ার্দার বলেন, রিক্তা ও আবদুল্লাহ ইশতিয়াকের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন রিক্তাকে গৃহবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এ কারণে তাঁর মেয়ে ওই বাড়িতে যেত না। তিনিই মেয়ের খরচ বহন করতেন। তিনি মেয়েকে একটি মুঠোফোন কিনে দিয়েছেন, সেটিও তাঁর স্বামীর কাছে থাকত। নিজের মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁর স্বামীর মাধ্যমে কথা বলতে হতো। তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ এ বাবার। এ ঘটনায় তাঁরা থানায় মামলা করবেন।

আবদুল্লাহ ইশতিয়াকের বাবা ইউনুস আলী বলেন, তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূ দুজনেই লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। এ কারণে পুত্রবধূ ঝিনাইদহে কম আসত। তবে দুই-তিনবার এসেছে। ছেলেও যেত। গত বৃহস্পতিবার তিনি রাজশাহীতে গিয়েছিলেন। তাঁদের কাছে থেকেছেন। তাঁদের মধ্যে কোনো মনোমালিন্য ছিল না। তাঁরা দুজনেই তাঁকে আপ্যায়ন করেছেন।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, ঘটনাটিকে তাঁরা আত্মহত্যা বলছেন না। এ ধারণাকে সামনে রেখে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা বলা যাবে না। ছেলে ও ছেলের এক বন্ধুকে থানায় আনা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন