বাকলিয়ায় শিশুধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ সোমবার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের শিশু, সহিংসতা, বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা শুনানি শেষে তা গ্রহণ করেন। আগামীকাল মঙ্গলবার মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
পাঁচ কার্যদিবসে তদন্ত শেষে গত বৃহস্পতিবার আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় বাকলিয়া থানার পুলিশ। এতে মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদুল আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে আসে রোববার। এক দিন পর আজ সোমবার আদালত তা গ্রহণ করেন। মামলা শুনানির সময় আসামি মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। আদালত আগামীকাল মঙ্গলবার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা রয়েছে রাষ্ট্রপক্ষের। এ জন্য খুব কম সময়ের মধ্যে শুনানির তারিখ রাখা হচ্ছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বাকলিয়া এলাকার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩০) বিকেল চারটার দিকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে থানায় নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্তকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে শত শত মানুষ পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা পিছু হটে অবস্থান নেন।
রাত আটটার দিকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তকে একটি ভবন থেকে বের করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে এরপরও উত্তেজিত লোকজন সড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।
পুলিশ জানায়, ২২ মে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় মামলাটি করেন। পরে বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে শিশুটিও আদালতে জবানবন্দি দেয়। দুজনের জবানবন্দিতে ঘটনার বিবরণ একই। গত সোমবার ডিএনএ এর নমুনা পাঠানো হয়। প্রতিবেদন আসে গত বুধবার। সব তথ্য-প্রমাণসহ আদালতে অভিযোগপত্র জমা করা হয়। মামলায় ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।’