১০ বছরে ১৯টি দুর্ঘটনা শেষে মৃত্যু, লাইসেন্স ছাড়া চলছিল কক্সবাজারের প্যারাসেইলিং

কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে পর্যটক অক্ষর শৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে সৈকতের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের নিরাপত্তাহীনতা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ১০ বছরে একই প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে, ঝাউবাগানে আটকে বা বালুচরে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন পর্যটক। অভিযোগ রয়েছে, সৈকতে প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করেনি। বৈরী আবহাওয়ায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগরে প্যারাসেইলিং ছিটকে পড়ে মৃত্যু হয় পর্যটক অক্ষর শৌভিক রায়ের । মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে প্যারাসেইলিংয়ে ওঠার মুহূর্তে ক্যামেরাবন্দী হন তিনি।গতকাল দুপুরে তোলাছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে অক্ষর শৌভিক রায় (৩০) নামের এক পর্যটকের মৃত্যুর পর পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। গতকাল শনিবার এ দুর্ঘটনার আগেও প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে একাধিকবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন পর্যটকেরা। তবে এরপরও প্রশাসন থেকে শক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জানা গেছে, সৈকতে তিনটি প্রতিষ্ঠান প্যারাসিইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কোনোটিরই যথাযথ অনুমোদন ছিল না। নিরাপত্তামূলক শর্ত পূরণ না করেই ইজারার ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছিল।

গতকাল ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ওই প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বৈরী আবহাওয়ায় প্যারাসেইলিং চালু রেখেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, গত ১০ বছরে এই প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রের পানিতে পড়ে, ঝাউবাগানের গাছের ডগায় আটকে অথবা বালুচরে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ পর্যটক।

‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস’ ছাড়াও হিমছড়ি ও প্যাঁচারদ্বীপ সৈকতে ‘ফানফেস্ট প্যারাসেইলিং’ এবং ‘স্যাটেলাইট ভিশন প্যারাসেইলিং’ নামের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টুয়াক) উপদেষ্টা মফিজুর রহমান বলেন, ‘কোনো রকম প্রশাসনিক তদারকি ছাড়াই অনভিজ্ঞ লোকজন দিয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রশাসন থেকে বারবার প্যারাসেইলিং বন্ধ করা হয়। তারপরও টাকার লোভে কিছু ব্যবসায়ী পর্যটকদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। হতাহতের ঘটনায় প্যারাসেইলিং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও দেখা যায় না।’

টুয়াক সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, ‘কক্সবাজারে বিনোদনের অন্যতম ও আকর্ষণীয় মাধ্যম প্যারাসেইলিং দরকার আছে। কিন্তু সেটা হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের। এখানে প্রশিক্ষিত কর্মী না থাকায় প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে, যা পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সাগরে পড়ে যান পর্যক শৌভিক রায়
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

প্যারাসেইলিং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ

বিশ্বব্যাপী প্যারাসেইলিং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ক্রীড়া হিসেবে পরিচিত। তাই অধিকাংশ দেশেই এটি পরিচালনার জন্য শুধু ব্যবসার লাইসেন্স যথেষ্ট নয়; নিরাপত্তা, কারিগরি সক্ষমতা, প্রশিক্ষিত জনবল, সরঞ্জাম পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এ জন্য বাণিজ্যিক অপারেটরদের নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলা, প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ, যাত্রীদের নিরাপত্তা-বিষয়ক যথাযথ ব্রিফিং, দায়-অস্বীকারপত্র গ্রহণ, সরঞ্জামের নিয়মিত পরিদর্শন এবং জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হয় বলে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে। কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালনার জন্যও জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনুমোদন ও তদারকি জরুরি হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানই সেসব শর্ত পূরণ করেনি।

২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে এক নারী পর্যটক রশি ছিঁড়ে প্যারাসেইলিংসহ সমুদ্রের পানিতে পড়ে যান। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও আঘাতে তাঁর কোমর জখম হয়। একই মাসে আরেক নারী পর্যটক প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পাশের ঝাউবাগানের ডগায় আটকে থাকেন। গাছ থেকে উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থাও সেখানে ছিল না। ওই ঘটনার পরদিন জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও পরে তা আবার চালু করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘সৈকতে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম নেই, এ ব্যাপারে কেউ অনুমোদন নেয়নি। সৈকতে গোসলে নেমে কোনো পর্যটক ডুবে গেলে কিংবা নিখোঁজ হলে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি আনতে হয়।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, কক্সবাজারের কোনো প্রতিষ্ঠানই লাইসেন্স নিয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে না। ইজারা নিয়ে খেলাধুলা পরিচালনা করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালালেও এরা গোপনে বারবার কার্যক্রম চালিয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ২৭ জুলাই থেকে দরিয়ানগর ও হিমছড়ি এলাকার সব প্যারাসেইলিং বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা হচ্ছিল। শনিবার দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং থেকে সমুদ্রের পানিতে ছিটকে পড়ে একজন পর্যটকের মৃত্যুর পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্যারাসেইলিংসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করেছেন। যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং কাগজপত্র যাচাইয়ের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিনা অনুমতিতে প্যারাসেইলিং পরিচালনার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

হিমছড়ি সৈকতের স্যাটেলাইট ভিশন সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিংয়ের ব্যবস্থাপক মো. কাইয়ুম বলেন, থাইল্যান্ডের দুজন প্রশিক্ষক এবং ১৬ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী নিয়ে তাঁরা ২০১৪ সাল থেকে প্যারাসেইলিং করে আসছেন। এ পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। প্যারাসেইলিংয়ে ওড়ার আগে আরোহীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওড়ার নিয়মকানুন জানিয়ে দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে এক বছর মেয়াদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে অনুমোদন নিতে হয়। প্রতিবছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। বৈরী পরিবেশের কারণে প্রশাসনের নির্দেশে তাঁরা ২৭ জুলাই থেকে কার্যক্রম বন্ধ রাখেন।

দুর্ঘটনার পর এখন যে অবস্থা

কক্সবাজার শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর ও হিমছড়ি সৈকতে পৃথক তিনটি প্রতিষ্ঠান প্যারাসেইলিং পরিচালনা করছে। আজ রোববার দুপুরে দরিয়ানগরের ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকটি স্পিডবোট বালুচরে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। কার্যালয়টিও তালাবদ্ধ, কোনো লোকজন নেই। সামনের সৈকতে কয়েকজন পর্যটক ঘুরেফিরে দেখছেন।

পর্যটকদের অভিযোগ, আনন্দ উপভোগ করার জন্য তাঁরা দরিয়ানগরে ছুটে আসেন প্যারাসেইলিংয়ে চড়ে আকাশ ঘুরে দেখার জন্য। বৈরী পরিবেশ কিংবা উত্তাল সাগরে প্যারাসেইলিং করা নিরাপদ কি না, তা পর্যটকদের জানার কথা নয়। শারীরিক ফিটনেসের ব্যাপারটাও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কর্মচারীরা রোমাঞ্চের প্রলোভন দিয়ে পর্যটকদের প্যারাসেইলিংয়ে চড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। প্যারাসেইলিং পরিচালনার নিয়মকানুনও ঠিকমতো জানানো হয় না। লক্কড়ঝক্কড় স্পিডবোট, যন্ত্রপাতি ও অদক্ষ কর্মচারী দিয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনার কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, প্রাণহানির ঘটনার পরপর প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ ফরিদ আত্মগোপন করেছেন। শনিবার রাত নয়টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্যারাসেইলিং, যন্ত্রপাতিসহ সবকিছু জব্দ করেছে। এ সময় সব কর্মচারীও পালিয়ে গেছেন।

এ প্রসঙ্গে জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং’ প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ ফরিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন ধরেননি। তবে দুর্ঘটনার আগে তিনি বলেছিলেন, প্রায় দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগে ১০ বছর আগে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং চালু করেছেন তিনি। বর্তমানে তাঁদের চারটি প্যারাসেইলিং, দুটি দ্রুতগতির জলযান জেট স্কি ও পাঁচটি স্পিডবোট রয়েছে। কর্মচারী আছেন ৩২ জন।

পর্যপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও অনুমোদন ছাড়াই চলছে প্যারাসেইলিং
ছবি: প্রথম আলো

দুর্ঘটনার দায় কার

গত জুলাই মাসে দরিয়ানগরে প্যারাসেইলিং উড্ডয়নের সময় আরোহীর ধাক্কায় চার-পাঁচজন পর্যটক (নারী-শিশু) আহত হয়েছেন। প্যারাসেইলিং উড্ডয়ন দেখতে সৈকতে বহু পর্যটক ভিড় জমান। আহত এক নারী বলেন, ছোট সন্তান নিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে প্যারাসেইলিং উড্ডয়ন দেখছিলাম, হঠাৎ প্যারাসেইলিংয়ের ধাক্কায় তিনিসহ তিন বছর বয়সী শিশু মাটিতে পড়ে যান, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই নেই।

স্থানীয় লোকজন জানান, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে এক নারী পর্যটক রশি ছিঁড়ে প্যারাসেইলিংসহ সমুদ্রের পানিতে পড়ে যান। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও আঘাতে তাঁর কোমর জখম হয়। একই মাসে আরেক নারী পর্যটক প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পাশের ঝাউবাগানের ডগায় আটকে থাকেন। গাছ থেকে উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থাও সেখানে ছিল না। ওই ঘটনার পরদিন জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও পরে তা আবার চালু করা হয়। ২০২৫ সালের ২০ মে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের সময় আরেক পর্যটক সমুদ্রে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

প্যারাসেইলিংয়ের রশি ছিঁড়ে, লাইফ জ্যাকেটের হুক খুলে সমুদ্রের পানিতে পড়ে, ঝাউবাগানে আটকে কিংবা বালুচরে সজোরে পড়ে গিয়ে কত পর্যটক আহত হয়েছেন, তার হিসাব নেই উল্লেখ করে কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দরিয়ানগরসহ সৈকতের কয়েকটি পয়েন্টে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে আসছে। প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটক আহত হলে প্রশাসন কিছুদিনের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। সর্বশেষ শনিবার একজন পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। প্রতিষ্ঠানগুলোয় আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই, নেই প্রশিক্ষিত অপারেটর, উদ্ধার জলযান ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। তারপরও কীভাবে প্যারাসেইলিং চলে—ভাবনার বিষয়। এর দায় কেউ নিতে চায় না।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘প্যারাসেইলিং থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় আজ রোববার বেলা একটা পর্যন্ত কেউ মামলা করেননি। সকালে নিহতের পরিবার খুলনা থেকে কক্সবাজার পৌঁছেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে প্যারাসেইলিং মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করবে।’

আরও পড়ুন

করণীয় কী

প্যারাসেইলিং অপারেটর আবদুল জলিল বলেন, প্যারাসেইলিং করার সময় অনেকে হাতে মুঠোফোন ও চোখে চশমা ব্যবহার করেন। কেউ কেউ মুঠোফোনে সেলফি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করে থাকেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। হাত থেকে ফসকে মুঠোফোন সমুদ্রে পড়ে গেলে ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই। ১২ বছরের নিচে কাউকে প্যারাসেইলিং করতে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। ১২০ কেজির বেশি ওজনের মানুষ, দুর্বলচিত্তের মানুষ অথবা হৃদ্‌রোগের সমস্যা আছে—এমন লোকজন ছাড়া যেকোনো নারী-পুরুষ নিশ্চিন্তে প্যারাসেইলিং করতে পারেন। তবে যাঁদের উচ্চতায় ভীতি আছে, তাঁদের প্যারাসেইলিং না করাই ভালো।

পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ট্যুর অপারেটর, হোটেলের মালিক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্যারাসেইলিং শুধু রোমাঞ্চকর নয়, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এভিয়েশন স্পোর্টস। তাই দুর্ঘটনা রোধে পর্যটক ও অপারেটর—উভয় পক্ষ থেকেই কঠোর সতর্কতা ও নীতিমালা মানা জরুরি।

প্যারাসেইলিং অপারেটর আবদুল জলিল আরও বলেন, পর্যটকদের আকাশে ওড়ার আগে প্রতিষ্ঠানের বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার। হারনেস, লাইফ জ্যাকেট, হেলমেট এবং সেফটি হুক ঠিকমতো আটকানো হয়েছে কি না, তা নিজে যাচাই করা প্রয়োজন। বাতাস খুব বেশি জোরে বইলে বা সমুদ্র উত্তাল থাকলে রাইড থেকে বিরত থাকা এবং উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা উচ্চতাভীতি থাকলে এই রাইড এড়িয়ে চলা এবং গাইড বা ইনস্ট্রাক্টরের নির্দেশনা হুবহু পালন করা উচিত।