চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ছুরিকাঘাতে আহত শিক্ষার্থীর নাম এস এম ফয়সাল হাসান। তিনি বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ছুরিকাঘাতে তাঁর ডান হাতের পেশি, আঙুলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে এস এম ফয়সাল তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এলাকায় বসে ছিলেন। এ সময় একজন ব্যক্তি তাঁদের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। এরপর তিনি ওই এলাকার একটি গাছের আড়ালে গিয়ে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতে থাকেন। তাঁর আচরণে সন্দেহ হলে ফয়সাল তাঁকে আটকে ওই এলাকায় কী করছেন জিজ্ঞাসা করেন। তবে ওই ব্যক্তি ফয়সালকে সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপর ফয়সাল তাঁর কয়েকজনকে বন্ধুকে কল দিয়ে বিষয়টি জানান। পরে ওই ব্যক্তিকে ফয়সালকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।
ফয়সাল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই ব্যক্তির বয়স ৩০ থেকে ৩৫–এর মধ্যে। তাঁর গায়ে কালো টি-শার্ট ছিল। ওই ব্যক্তি ছুরি দিয়ে গলাতেও আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আমি ধরে ফেলায় আমার হাতে জখম হয়। ঘটনার পরপর অন্য শিক্ষার্থীদের ঘটনাস্থলে আসতে দেখে হামলাকারী পালিয়ে যান। এ হামলায় সরাসরি একজন অংশ নিলেও সেখানে দুজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছিলাম। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে আমি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
এদিকে এ ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থলের কাছেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসিক মাস্টারদা সূর্যসেন হল। ওই হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদমান আল-তাছিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আমরা ঘটনাটি জানতে পারি। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি দেখতে পাই। সেখানে কোনো নিরাপত্তাকর্মী, সিসিটিভি ক্যামেরা কিংবা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক মুহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, গতকাল আনুমানিক রাত আটটার দিকে একজন শিক্ষার্থী এসেছিলেন। তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের ওপর ছুরির আঘাত ছিল। সেখানে সেলাই দেওয়া হয়েছে। আর তাঁর দুই হাতের আঙুলে ছুরির কয়েকটি ক্ষত ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আহত শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার কারণে তখন বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে হামলাকারী বহিরাগত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও অনেকগুলো অকার্যকর। ইতিমধ্যে সেগুলো সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।