সিলেটে ফিলিং স্টেশনের কর্মীর ওপর হামলা, ৫ দাবিতে দুপুর পর্যন্ত ধর্মঘট

সিলেটে ফিলিং স্টেশনগুলোয় সোমবার রাত থেকে আজ মঙ্গলবার বেলা ২টা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবেছবি: প্রথম আলো

দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেওয়ার মধ্যে সিলেটের ফিলিং স্টেশনগুলোয় ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত থেকে আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটা পর্যন্ত এই ধর্মঘট পালিত হবে।

গতকাল সন্ধ্যায় সিলেটের একটি ফিলিং স্টেশনের কর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদ, জ্বালানি তেল বিপণনের ক্ষেত্রে বর্তমান সংকট নিরসন এবং পাম্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

গতকাল রাতে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াশদ আজিম ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

দাবিগুলোর মধ্যে আছে—পেট্রোল পাম্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনাতে হবে। বিপিসি আরোপিত অযৌক্তিক দৈনিক কোটাপদ্ধতি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। স্বাভাবিক, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর জ্বালানি বিপণনব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে। সিলেট অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনের নেতাদের ভাষ্য, গতকাল সন্ধ্যায় সিলেট নগরের উত্তরা পেট্রোলিয়াম নামের ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা এক ব্যক্তি পাম্পের এক কর্মীর ওপর হামলা চালান। এতে ওই কর্মী মারাত্মক আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষী ব্যাক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে নেতারা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

সিলেট নগরের মাছুদিঘীর পাড় এলাকার বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান বলেন, সিলেটের পাম্পগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে অত্যন্ত ভিড় ছিল। ফলে অনেকবার তেল নিতে গিয়েও ফিরতে হয়েছে। মোটরসাইকেলে কিছু তেল থাকায় সেটি দিয়ে কয়েকদিন চালানো গেছে। কিন্তু গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর সেটিও রিজার্ভে গিয়ে শেষ হওয়ার সংকেত দিচ্ছিল। তখন পাম্পে গিয়ে জানা গেল ধর্মঘট চলছে। তাই আর তেল সংগ্রহ করা যায়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এখন তেল না থাকলে মোটরসাইকেল দিয়ে কী করব?’