পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাত দুইটার দিকে হঠাৎ উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের আমজাখালী গ্রামের আল আমিন মার্কেটে আগুন ধরে যায়। ওই মার্কেটের মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও মোহাম্মদ রুবেলের কুলিং কর্নার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন পুলিশ সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর ভোর চারটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে ওসি মিজানুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডে ১৯টি দোকান ও ২৩টি বসতঘর পুড়ে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা করে কুতুবদিয়া থানা-পুলিশ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন শেফায়েত উল্লাহ, আনোয়ার হোসেন, শাহাদাত হোসেন, নেজাম উদ্দিন, আবদুস সালাম, মো. ইসহাক, কামাল উদ্দিন, রেজাউল করিম, মো. রুবেল, নুরুল ইসলাম, মো. বাদশা, গিয়াস উদ্দিন, মো. আজিজ, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ইব্রাহিম, মো. এমরান হোসেন, নুরুল ইসলাম, রতন দাশ ও আনছারুল করিম।

অন্যদিকে আগুনে শফিউল আলম, রমজান আলী, নাজের আহমদ, জহির আহমদ, নেজাম উদ্দিন, মো. আজম, আবদুল জব্বার, কামাল উদ্দিন, মো. পেটান আলী, নুরুল ইসলাম, আবদুস সালাম, মো. কালু, আবু ছৈয়দ, সাচি মিয়া, মো. শরীফ, মো. ফোরকান, মো. ওসমান, জিয়াবুল হক, মো. রশিদ, খেশমত উল্লাহ কাজল, সকিনা বেগম, মো. রিফন ও জাহাঙ্গীর আলমের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় টানা দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে ১৯টি দোকান ও ২৩টি বসতঘর পুড়ে গেছে। পুলিশ সদস্যদের চেষ্টায় ১৮টি দোকানসহ শতাধিক বসতঘর আগুন থেকে রক্ষা পায়। অগ্নিকাণ্ডে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে আসবাব, কম্বল, চাল, ডাল, তেলসহ শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ২ বান্ডিল টিন, ৩০ কেজি চাল ও ৬ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।