গতকাল সোমবার প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন মাহমুদা বেগম। তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। ওই দিন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার জন্য যাওয়া হয়নি। রাত যতই গভীর হয়, ততই বাড়তে থাকে সুপার সাইক্লোন সিডরের তাণ্ডব আর পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে মাহমুদা বেগমের প্রসববেদনা। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঝোড়ো হাওয়া ও পানির স্রোত মাহমুদা বেগমের ঘর উড়িয়ে নিয়ে যায়। তাঁর স্বামী মো. মিজানুর রহমান, বড় ছেলে সজীবসহ বাড়ির কয়েক কয়েকটি কলাগাছ কেটে দড়ি দিয়ে বেঁধে সেগুলোর পাতা ধরে পানিতে ভেসেছিলেন। অন্ধকার রাত, চারদিকে শুধু পানি আর চিৎকার-চেঁচামেচি। সূর্যোদয়ের কিছু আগে মাহমুদা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে নেওয়া হয় বড় সড়কের পাশে একটি বাড়িতে। সেখানে কোনো চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়াই জন্ম নেয় ফুটফুটে এক শিশু। সুপার সাইক্লোনের সঙ্গে মিল রেখে শিশুটির নাম রাখা হয়েছিল ‘সিডর’।

আজ ১৫ নভেম্বর সেই সিডরের জন্মদিন। সে বর্তমানে মির্জাগঞ্জ উপজেলার চরখালী সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তার পুরো নাম রাশেদুল ইসলাম ওরফে সিডর। তবে এলাকায় সবাই তাকে ‘সিডর’ নামেই ডাকে।

মাহমুদা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী মো. মিজানুর রহমান ছোট শিশুদের কাঠের খেলনা তৈরি করে বিক্রি করতেন। ঘূর্ণিঝড় সিডরের রাতে তাঁদের খেলনা তৈরির কারখানা ও উপকরণ এবং বাড়িঘর তছনছ হয়ে যায়। তাঁদের দুরবস্থা দেখে বেসরকারি সংস্থা মুসলিম এইড একটি ঘর তুলে দেয়। জমিজমা তেমন না থাকলেও হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল লালন পালন করে আবার তাঁরা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এখন তাঁরা ভালো আছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ‘সিডর’ বাড়ির কাজে মাকে সাহায্য করে। আর স্বামী মিজানুর রহমান এখন গভীর নলকূপ বসানোর ঠিকাদারি কাজ করছেন। দুই ছেলে সজীব, সিডর আর এক মেয়েকে নিয়ে ভালোই চলছে তাঁদের সংসার।