সাইবার অপরাধ শনাক্তে রাজশাহীতে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব চালু
রাজশাহীতে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব চালু হয়েছে। আজ রোববার বেলা আড়াইটার দিকে নগরের সিঅ্যান্ডবি মোড়ে এই ল্যাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক। এই ল্যাব চালুর ফলে সাইবার অপরাধ, অপরাধী শনাক্তকরণসহ ডিজিটাল তথ্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে জানিয়েছে আরএমপি।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট অ্যান্টি-টেররিজম অ্যাসিস্ট্যান্স (এটিএ), যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সহযোগিতায় ল্যাবটি আরএমপির নির্মাণাধীন সদর দপ্তরের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ভবনে স্থাপন করা হয়েছে।
উদ্বোধনের পর আরএমপি পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিকস ডিভাইস দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিত্যনতুন অপরাধ সংগঠিত করছে। আরএমপির সব থানাগুলোতে সাইবার অপরাধ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি তদন্তে আরএমপি, সাইবার ক্রাইম ইউনিট নিয়মিতভাবে সহযোগিতা করছে। আগে ডিজিটাল ডিভাইস, সাইবার অপরাধ ও অপরাধীদের শনাক্তকরণসহ আলামতের সত্যতা নিরূপণের জন্য সিআইডি ও পিবিআইয়ের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের সহায়তা নিতে হতো। তবে এখন এখানেই দ্রুত কাজ করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টি-টেররিজম অ্যাসিস্ট্যান্সের (এটিএ) সহযোগিতায় আরএমপিতে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
সাইবার ক্রাইমের ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার উৎপল কুমার চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের মাধ্যমে কম্পিউটার ও ডিজিটাল স্টোরেজ মিডিয়া থেকে গোপনীয় ডেটা উদ্ধার ও বিশ্লেষণ করা যাবে। এখানে মূল্যবান ডেটা সংরক্ষণ বা স্থানান্তর করা যাবে। অপরাধ ঢাকতে বা আলামত গায়েব করতে মুছে ফেলা তথ্য, মেমোরি ডাম্প, হার্ড ড্রাইভে ফাঁকা ফোল্ডার, বিভিন্ন জটিল ফাইলের ফরেনসিক পরীক্ষা করবে আরএমপির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব। মোবাইল ফরেনসিকের মধ্যে রয়েছে অপরাধ কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ও যেকোনো ডিভাইস। ফরেনসিকে ল্যাবের মাধ্যমে মোবাইল, ট্যাব, জিপিএস, ডিভাইস, ড্রোন ইত্যাদি থেকে ডেটা উদ্ধার ও বিশ্লেষণ করা যাবে।
আরএমপি সূত্রে জানা গেছে, ফরেনসিকে ল্যাবের মাধ্যমে যেসব ডেটা উদ্ধার ও বিশ্লেষণ করবে তার মধ্যে আছে এসএমএস এবং এমএমএস বা এই জাতীয় মুছে ফেলা ডেটা, কল লগ ও লিস্ট, ফোন আইএমইআই ও ইএসএন সম্পর্কিত তথ্য, ওয়েব ব্রাউজিং, ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক সেটিংস, জিওলোকেশন তথ্য, ই-মেইল এবং ইন্টারনেট মিডিয়া ও ফর্ম, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং পরিষেবা, পোস্টসহ বিভিন্ন ডার্ক ও ডিপ ওয়েবসাইটের হোয়াইট কলার ক্রিমিনালদের অপরাধের আলামতসমূহ। এ ছাড়া ডিজিটাল এই ল্যাবের মাধ্যমে অ্যাপ ডেটা, মেসেঞ্জার ডেটা ও ক্লাউড ড্রাইভে সংরক্ষিত ডেটাসমূহ বিশ্লেষণ করে অপরাধ ও অপরাধীদের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) বিজয় বসাক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড ডিবি) সামসুন নাহার, উপপুলিশ কমিশনার (সদর) মো. সাইফউদ্দীন শাহীন, যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট অ্যান্টি-টেররিজম অ্যাসিস্ট্যান্সের প্রশিক্ষকসহ মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।