সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম ও তাঁর স্ত্রী-বোনদের নামে দুদকের ২ মামলা

সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম ও তাঁর স্ত্রী শাহাজাদী আলমছবি: সংগৃহীত

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হামিদুল আলম (মিলন), তাঁর স্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা শাহাজাদী আলমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৬১ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও ৫৬ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আজ সোমবার দুদকে মামলাগুলো করেন।

দুদকের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাহফুজ ইকবাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম চাকরিরত থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজে ও স্ত্রী-বোনদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৬১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ কারণে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে দুদকে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। দুদক নিজে এসব মামলা তদন্ত করবে।

দুদক সূত্র জানায়, হামিদুল আলমের বিরুদ্ধে ২৭ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৯০৫ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ৩৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া হামিদুল আলম তাঁর বোন আজিজা সুলতানা, আরেফা সালমা ও শিরিন শবনমের সহায়তায় ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও স্থানান্তর করেছেন। এসব অপরাধে একটি মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

আরেক মামলায় হামিদুল আলম ছাড়াও তাঁর স্ত্রী মোছা. শাহাজাদী আলমকে (লিপি) আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় হামিদুল আলমকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। শাহাজাদী আলম বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য এবং ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে শাহজাদী আলম মনোনয়নপত্র জমা দিলেও যাচাই–বাছাইয়ে তা বাতিল হয়।

আরও পড়ুন

এই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শাহাজাদী আলম কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসৎ উদ্দেশ্যে ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৮ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য এবং উৎস গোপন করে মিথ্যা হিসাব ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ও অবৈধ সহায়তায় ২৬ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া শাহজাদী আলম আরও প্রায় পৌনে চার কোটি টাকা সম্পদ হস্তান্তর বা হস্তান্তরে সহায়তা করেছেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে স্ত্রীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গত বছরের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলমকে।

আরও পড়ুন