পটুয়াখালীতে অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে বাস খাদে, মা-মেয়েসহ ৪ জন নিহত
পটুয়াখালী সদর উপজেলার কলাপাড়া-পটুয়াখালী মহাসড়কে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অটোরিকশায় থাকা মা-মেয়েসহ চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার রাতে বসাক বাজারসংলগ্ন ধলুগাজীর মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসে থাকা অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন গলাচিপা উপজেলার গোলবুনিয়া ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৪০), একই উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের চারআনি বাউড়িয়া গ্রামের শিল্পী রানী (৪০), তাঁর মেয়ে বিথি রানী (২৩) এবং অটোরিকশাচালক আবদুল কাইয়ুম প্যাদা (৫০)।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বরগুনার তালতলী উপজেলা থেকে ইমরান ট্রাভেলস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পটুয়াখালী শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে বসাক বাজারসংলগ্ন ধলুগাজীর মোড়ের একটি বাঁক অতিক্রম করছিল বাসটি। একই সময়ে পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট থেকে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশাও ওই স্থান অতিক্রম করছিল। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে সড়কের পাশের খাদে উল্টে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে অটোরিকশায় থাকা তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় অটোরিকশাচালক আবদুল কাইয়ুম প্যাদাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত শিল্পী রানীর প্রতিবেশী আবদুল কাউয়ুম জানান, শিল্পী ও তাঁর মেয়ে গতকাল বিকেলে পটুয়াখালী জেলা শহরে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। রাতে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। এ সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. রেজওয়ান বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আহত কয়েকজনকেও উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।