পাহাড়ে সম্প্রীতি রক্ষার প্রতিশ্রুতি

নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন রাঙামাটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দীপেন দেওয়ান। গতকাল দুপুরে রাজস্থলীর বাঙালহালিয়ায়ছবি: সংগৃহীত

আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটি। অথচ এ জেলায় সংসদীয় আসন রয়েছে মাত্র একটি। দুর্গম পাহাড়, নদী আর বিচ্ছিন্ন জনপদ এর অন্যতম কারণ। তবে এর পরও জেলাজুড়ে চলছে ভোটের উৎসব। প্রার্থীরাও ছুটছেন দুর্গম এলাকার ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি।

পাহাড়ের এ আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী একজন। বিএনপি, জামায়াত–সমর্থিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন এ আসনটিতে প্রার্থী দিয়েছেন। প্রার্থীরা জেলার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

আসনটিতে এ বছর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দীপেন দেওয়ান। গত বুধবার তিনি জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ির বঙ্গলতলী ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। ওই ইউনিয়নের দুর্গম করেঙ্গাতলী বাজারে তিনি একটি পথসভায় বক্তব্য দিয়েছেন। এতে তিনি সম্প্রীতি, অগ্রগতি, উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

দীপেন দেওয়ান বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে উন্নয়ন হয় না। বিএনপি সরকার গঠন করলে, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে যেন সবাই চাকরি পান, সে নিশ্চয়তা দেবেন।

আসনটিতে একমাত্র নারী প্রার্থী জুঁই চাকমা। তিনি বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী। তিনিও বাঘাইছড়ি উপজেলায় নির্বাচনী পথসভা করেছেন। এতে তিনি নিজের ইশতেহারও ঘোষণা করেছেন। পথসভায় জুঁই চাকমা বলেন, বাঘাইছড়ি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা। কিন্তু এর পরও জেলা সদরের সঙ্গে এ উপজেলার সরাসরি সড়কপথে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। এটা বাঘাইছড়ি উপজেলাবাসীর সঙ্গে বৈষম্য। তিনি নির্বাচিত হলে এ বৈষম্য দূর করবেন। এ ছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ একটি হাসপাতাল করবেন।

অপর দিকে আসনটিতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী আবু বক্কর ছিদ্দিক। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচন করছেন। তাঁর প্রতীক রিকশা। তাঁর পক্ষেও জেলার বরকল উপজেলায় গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার উপজেলার এরাবুনিয়া বাজার, ভুষনছড়া বাজার, ছোট হরিনা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি বক্তব্য দেন।

আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ক্ষমতায় এলে পাহাড়ি ও বাঙালি সব জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এ সবই জেলায় এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ জেলায় আরও প্রচারণায় সরব রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জসিম উদ্দিন। গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী আবুল বাশার, স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী অশোক তালুকদার।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায় রাঙামাটির ১০ উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ৫০টি ইউনিয়ন মিলে এ আসন। এতে মোট ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫ ও হিজড়া ২ জন। এসব ভোটারের ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্র রয়েছে ২১৩টি। এর মধ্যে দুর্গম এলাকায় ২০টি।