চা-বাগান ও গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ ঘুরে ঘুরে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের প্রার্থী প্রীতম দাশ। বড় গাড়িবহর বা শোরগোল ছাড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে চলছে তাঁর নির্বাচনী প্রচার।
গতকাল সোমবার সকাল থেকে তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর, ক্লোনেল চা–বাগান, বৌলাছড়া চা–বাগান, সাইফ চা–বাগানে জনসংযোগ করেছেন। বেলা তিনটার দিকে রুস্তমপুর গ্রামে কীর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন তিনি।
নিজের নির্বাচনী এলাকা সম্পর্কে প্রীতম দাশ জানান, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ অপার সম্ভাবনার জনপদ হলেও সেই সম্ভাবনা আজ অবরুদ্ধ। পর্যটন আছে, কিন্তু স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নেই। চা–বাগান আছে, কিন্তু শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে, কিন্তু পরিকল্পিত উন্নয়ন নেই। যুবসমাজ আছে, কিন্তু সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নেই। তিনি এই এলাকার মানুষ। সমস্যা জানেন, সমাধানের পথও জানেন। দীর্ঘ এক যুগ ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। এখন সময় এসেছে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জকে পরিবর্তনের। তিনি আশাবাদী, এখানকার মানুষ তাঁকে উন্নয়নের জন্য বিজয়ী করবেন।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার-৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮ জন। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আসনটিতে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শেখ নূরে আলম হামিদী, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. আবুল হাসান ও স্বতন্ত্র মো. মহসিন মিয়া।
গত রোববার সকাল ৯টায় একটি গাড়ি নিয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন প্রীতম দাশ। এ দিন নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁর সঙ্গে ছিল না কোনো মোটরসাইকেল বা গাড়িবহর। সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি যান রাজঘাট চা–বাগান এলাকায়। চা-বাগানের শ্রমিক কলোনিতে ঘুরে ঘুরে জনসংযোগ করেন। এরপর হরিণছড়া চা–বাগানের মা মারিয়া তীর্থস্থানে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে মির্জাপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কীর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইছামতী চা–বাগানের মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরেও জনসংযোগ করেন তিনি। বিকেলে হরিণাকান্দি গ্রাম ও রাজঘাট চা–বাগানে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে অংশ নেন।
আসনটিতে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শেখ নূরে আলম হামিদী, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. আবুল হাসান ও স্বতন্ত্র মো. মহসিন মিয়া।
গত শুক্রবার প্রীতম দাশের সঙ্গে সারা দিন ঘুরে গণসংযোগ পর্যবেক্ষণ করেন এই প্রতিনিধি। এ দিন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুরভুরিয়া, ভাড়াউড়া, সোনাছড়া, জাগছড়া, কালাছড়া (গারো লাইন), মাইজদিহি ও নারায়ণছড়া চা–বাগানে দুজন কর্মী নিয়ে চা–শ্রমিকদের সঙ্গে জনসংযোগ করেন। কাজের ফাঁকে শ্রমিকেরা এগিয়ে এসে তাঁদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। অনেকেই রাস্তায় প্রীতমকে জড়িয়ে ধরেন, হাত মেলান।
চা–শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রীতম দাশ বলেন, ‘আপনারা বড় বড় নেতা দেখেছেন, যাঁরা বড় গাড়ি নিয়ে আসেন। কিন্তু ভোটের পর আপনাদের জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে? আমি ক্ষমতায় না থেকেও আপনাদের আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। যদি আমাকে বিজয়ী করেন, আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব। আর বিজয়ী না হলেও আমি আপনাদের পাশে থাকব।’
চা–শ্রমিক অনিল রবিদাশ বলেন, ‘ভোটের আগে সবাই আসে, পরে কাউকে পাই না। প্রীতম দাশকে আমরা চা–বাগানের মানুষ চিনি। তিনি অনেক আগে থেকেই আমাদের জন্য আন্দোলন করেছেন। তাই আজ তাঁকে আশীর্বাদ করলাম।’
গত শুক্রবার দুপুরে নিশ্চিন্তপুর গ্রামে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৮তম জন্মমহোৎসব উপলক্ষে ধর্মসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রীতম দাশ। বিকেলে তিনি ভৈরবগঞ্জ বাজারের সাপ্তাহিক হাটে প্রচারপত্র বিতরণ ও জনসংযোগ করেন। প্রীতম দাশ বলেন, ‘আমার নির্বাচনী আসন দেশ-বিদেশে পরিচিত। প্রতিদিন পর্যটক আসেন, অথচ পর্যটনের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হয়নি।’