হল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সামাদ হাউস নামে ভাড়া ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক হল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গত বছর ওই ভবনে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। চলতি মাসে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ভবনের বেশ কিছু বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যানসহ ল্যাপটপ, মুঠোফোনের চার্জার নষ্ট হয়ে যায়। গতকাল সন্ধ্যায় এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

এসব দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর ওই ভবনের সব বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো একা‌ধিকবার পরীক্ষা করেছে। তবে সেখানে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। পরে প্রকৌশলীরা ধারণা করেন, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের ফলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাধ্যক্ষ বডি গতকাল সন্ধ্যায় ছাত্রীদের কক্ষে তল্লাশি চালায়। এ সময় ছাত্রীদের কক্ষ থেকে তিনটি রাইসকুকার, ছয়টি বৈদ্যুতিক ওয়াটার হিটার ও পাঁচটি ইস্ত্রি জব্দ করে।

সামাদ হাউসের একাধিক ছাত্রী বলেন, গত সপ্তাহে একবার বিদ্যুতের সংযোগ লাইন পুড়ে গিয়ে‌ছিল। পরে বিশ্ববিদ‌্যায় কর্তৃপক্ষ সেটা মেরামত করিয়ে দিয়ে‌ছিল। তবে গতকাল সন্ধ্যায় আবার একই ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, বেশ কিছু ছাত্রী অনুমোদনহীনভাবে রাইস কুকার, হিটার ব্যবহার করতেন। এতে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনায় তাঁদের কক্ষের বাতিসহ ল্যাপটপ ও মুঠোফোনের চার্জার নষ্ট হয়ে গেছে।

বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জোবেদা কনক খান বলেন, হলে একা‌ধিকবার বৈদ্যুতিক সমস‌্যা হয়েছে। প্রতিবারই ২০-৩০টি বাতি নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবার নতুন করে বাতি লাগাতে হয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অনুমোদনহীন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরও অনেকে লুকিয়ে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতেন। নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ছাত্রীরা যেন এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকেন, সে জন্য গতকাল অভিযান চালানো হয়েছে।