এতে সহায়তা করে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ‘ওব্যাট হেলপারস’ ও ‘রোটারি ইন্টারন্যাশনাল’। ‘প্রান্তিক উন্নয়ন সোসাইটি’ আশ্রয়শিবিরে ৯টি লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের পাঠদান করে আসছে।

জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে দিবসটি সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে। ‘প্রান্তিক উন্নয়ন সোসাইটি’র কর্মসূচি সমন্বয়ক অনিমেষ বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, শিশুদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকেরাও এ আয়োজন উপভোগ করেছেন।

‘জনকল্যাণের বিনিয়োগ এবং শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিন’ প্রতিপাদ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অংশ নেয় কয়েক শ শিশু। এর মধ্যে ৩৩ শিশুকে পুরস্কৃত করা হয়। দুপুরে বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আশ্রয়শিবিরের ইনচার্জ (উপসচিব) দাউদ হোসাইন চৌধুরী।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শিশুদের মানবিক ও মানসিক বিকাশে এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ছবিতে ছবিতে রোহিঙ্গা শিশুরা জন্মভূমির স্মৃতি তুলে ধরেছে।

রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের দৃশ্যপট এঁকে পুরস্কার পায় আশ্রয়শিবিরের একটি লার্নিং সেন্টারে তৃতীয় শ্রেণিপড়ুয়া রোহিঙ্গা শিশু শামিম আরা (১১)।

ছবিটির বিষয়ে জানতে চাইলে শামিম আরা বলে, ‘আঁরা রোহিঙ্গা। আঁরার জন্ম বর্মার আরাকানত। মংডু আঁরার শঅঁর। বাংলাদেশত বড় অইলেও আঁরা জন্মভূমিত ফেরত যাইতাম চাই। এতল্যাই আঁই মংডু শহরর ছবি আঁক্ক্যি।’

আরেফা নামের আরেক শিশু এঁকেছে রাখাইন রাজ্যের একটি স্কুলের ছবি। আরেকজন এঁকেছে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ছবি। পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত রোহিঙ্গা শিশু মোহাম্মদ রফিক (৯) বলে, এমন আয়োজন আরও দরকার।

রহিম উল্লাহ নামের আরেক শিশু বলে, আঁকতে তার ভালো লাগে। ভবিষ্যতে বড় চিত্রশিল্পী হয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ইতিহাস ও জীবনযাত্রা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চায় সে।

আশ্রয়শিবিরের একটি বিদ্যালয়ের রোহিঙ্গা শিক্ষক মো. আতিকুল্লাহ (৩৪) প্রথম আলোকে বলেন, আশ্রয়শিবিরে পড়াশোনার পাশাপাশি মেধা বিকাশে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, খেলাধুলাসহ নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে রোহিঙ্গা শিশুরা লাভবান হচ্ছে—যা তারা রাখাইন রাজ্যে পায়নি।