এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ জাইম ২০১৯ সালের গণিত অলিম্পিয়াডে জুনিয়র পর্যায়ে অংশ নিয়েছিল। আহনাফ এবার সেকেন্ডারি পর্যায়ে অংশ নিয়েছে। সে বলল, ‘বড় ভাইয়াও গণিত উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন। এই উৎসবে এলেই ভালো লাগে।’

মঞ্চে জাদু পরিবেশন করেন স্বপন দিনার। এরপরই হয় রুবিকস কিউব প্রতিযোগিতা। ১২ সেকেন্ডে কিউব মিলিয়ে বিজয়ী হয় আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুদীপ্ত সারওয়ার।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা মহানগরের সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরির দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

মঞ্চে যক্ষ্মা সচেতনতা নিয়ে গম্ভীরা গান পরিবেশন করেন জলপুতুলের শিল্পীরা। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীনে আইসিডিডিআরবি পরিচালিত ইউএসএআইডিস অ্যালায়েন্স ফর কমব্যাটিং টিবি ইন বাংলাদেশ কার্যক্রম এই গম্ভীরার আয়োজন করে।

‘গণিতের প্রশ্ন, গণিতের উত্তর’ পর্ব শুরু হয় বেলা দুইটায়। প্রশ্নের উত্তর দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন, গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক কাউন্সিলর আশরাফুল আল শাকুর ও এস এম মাহ্তাব হোসাইন। এ পর্ব পরিচালনা করেন গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির একাডেমিক কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান।

সমাপনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান। তিনি বলেন, জীবনে বড় হতে চাইলে গণিতের প্রয়োজন। জীবনের প্রয়োজনে প্রায়োগিক গণিত শিখতে হবে।

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদী বলেন, শিক্ষার্থীরা গণিত অলিম্পিয়াড থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছে।

সেকেন্ডারিতে ১২৭ জন ও হায়ার সেকেন্ডারিতে ৪১ জন বিজয়ী হয়েছে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণিত অলিম্পিয়াডের একাডেমিক কাউন্সিলর জাহিদ হোসাইন খান।

গণিত উৎসবস্থলে ছিল প্রথমা প্রকাশন, কিশোর আলো, বিজ্ঞানচিন্তা, তাম্রলিপি, দ্বিমিক, ল্যাববাংলা, আদর্শ এবং স্বপ্ন ৭১ প্রকাশনীর স্টল। উৎসবে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। যক্ষ্মা নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার ও বিনা মূল্যে যক্ষ্মা নির্ণয় ক্যাম্প করে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)।

কুমিল্লায় গোমতী–মেঘনাপারের শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

গতকাল গণিত উৎসবের আসর বসেছিল কুমিল্লাতেও। গোমতী ও মেঘনা নদীর পারের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হয় কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে।

সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির পতাকা উত্তোলন করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মনির আহম্মেদ ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, গণিতে যে মজা পায়, সে প্রযুক্তি শিক্ষাকে হাতের মুঠোয় আনতে পারবে।

উদ্বোধনীর পর হয় সোয়া ঘণ্টার পরীক্ষা পর্ব। এতে কুমিল্লা ও চাঁদপুরের ৭২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

বেলা সাড়ে ১১টায় শামিয়ানার নিচে মূলমঞ্চে শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রশ্নের জবাব দেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র নন্দী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান ও চৌধুরী শাহরিয়ার মোজাম্মেল, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক আলীমুল রাজী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজু আহম্মদ, কুমিল্লা সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রইছ মিয়া। ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বিজয় কৃষ্ণ রায় এ পর্ব সঞ্চালনা করেন। উত্সবে মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থকে দুই হাত উঁচিয়ে শিক্ষার্থীরা ‘না’ বলে।

বেলা দুইটায় সমাপনী পর্বে বক্তব্য দেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জামাল নাছের, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ চিকিত্সক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও কুমিল্লা স্কুল অব রোবটিকসের অধ্যক্ষ এম নার্গিস আক্তার, প্রথম আলো কুমিল্লা জেলা বন্ধুসভার সভাপতি চন্দন দাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর কুমিল্লার নিজস্ব প্রতিবেদক গাজীউল হক। কুমিল্লা উত্সবে চারটি বিভাগে ৬০ জন বিজয়ী হয়।