কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, পানিবন্দী ৫ হাজার মানুষ

কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পানি বেড়ে ফসলি খেত ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রোববার সকালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তিস্তা নদীর অববাহিকায় রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে দুই হাজারের বেশি মানুষ, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের এক হাজার মানুষ ও উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

একই সঙ্গে জেলায় ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গাধর নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শতাধিক চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে জেলার ৩৩৫ হেক্টর রোপা আমন ধান ও ৫০ হেক্টর জমির সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

আজ সোমবার সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি গত চার দিন থেকে বাড়ছে। আজ সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। নদ-নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে মাঝারি ধরনের বন্যা হতে পারে।

রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম বলেন, তাঁর ইউনিয়নে তিন শতাধিক বসতবাড়ির চারদিকে পানি। এতে হাজারখানেক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

আজ সকাল ৯টায় কুড়িগ্রামের পাউবোর তথ্য মতে, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫৮ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬৯ সেন্টিমিটার, ধরলা নদীর পানি সদর পয়েন্টে ৬৪ সেন্টিমিটার, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৯০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চর নাকেন্দা, গতিয়াশাম, খিতাব খাঁ, চর খিতাব খাঁ এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পাঁচ শতাধিক পরিবারের দুই হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে গবাদিপশুর খাদ্যসংকট হওয়ার আশঙ্কা আছে।

উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তা–তীরবর্তী জুয়ান সতরা, চর নিয়াশা, চর গোড়াইপিয়ার প্রায় দুই হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী–তীরবর্তী কুমারপাড়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ৬০টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে।

জুলাইয়ে প্রথম ধাপে বন্যার পর কৃষকেরা রোপা আমন ধান লাগাতে শুরু করেছিলেন বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে জেলার ৯০ শতাংশ জমিতে রোপা আমন ধান লাগানো শেষ হয়েছে। কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৩৩৫ হেক্টর রোপা আমন ও ৫০ হেক্টর সবজি খেত বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ প্রথম আলোকে বলেন, কুড়িগ্রামে উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার্ত ব্যক্তিদের জন্য ১৮টি স্থায়ী ও ৩৬১টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যার্ত ব্যক্তিদের জন্য জেলার ৯টি উপজেলায় ৭৬ মেট্রিক টন চাল, টাকা ও শুকনা খাবার মজুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় ৩৮৭ মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ৩ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, শিশুখাদ্য বাবদ ২ লাখ ও গোখাদ্য ক্রয় বাবদ ৫ লাখ টাকা মজুত আছে।