আজ দুপুরে জেলা বাস মালিক সমিতির সভায় বলা হয়েছে, মহাসড়কে লাইসেন্সবিহীন তিন চাকার অবৈধ যান চলাচল বন্ধ ও রংপুর-কুড়িগ্রাম রুটে প্রশাসনিক হয়রানির প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে পরদিন শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত রংপুর জেলার সব রুটে বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ময়মনসিংহ ও খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশের আগে একইভাবে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল।

এদিকে রংপুরে নগরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে শনিবার বিএনপির গণসমাবেশ হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সমাবেশ সফল করার জন্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা রংপুর এবং বিভাগের জেলা ও উপজেলাগুলোতে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন। এ সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

বাস বন্ধের বিষয়ে সামসুজ্জামান বলেন, ‘বাস চলাচল বন্ধ করা হবে, এটা আমরা প্রায় নিশ্চিত ছিলাম। কারণ, ময়মনসিংহ ও সর্বশেষ খুলনায় এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে সরকার গণসমাবেশ বানচাল করতে চেয়েছিল। কিন্তু তা করতে পারেনি। ঠিক একইভাবে রংপুরের গণসমাবেশেও মানুষের উপস্থিতি ঘটবে। বাস কিংবা গণপরিবহন বন্ধ করে মানুষের উপস্থিতি ঠেকানো যাবে না।’

বাস মালিক সমিতির দুই নেতা বলেন, বিএনপির সমাবেশের সঙ্গে বাস বন্ধের কোনো সম্পর্ক নেই। মহাসড়কে ভটভটি, নছিমনসহ তিন চাকার গাড়ি চলাচল করার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ি বন্ধের জন্য বিভিন্ন সময় দাবি জানানো হলেও এসব দাবি পূরণ করা হচ্ছে না।

সমাবেশ ঘিরে বিএনপির প্রস্তুতি

বিএনপির গণসমাবেশ উপলক্ষে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে মঞ্চ তৈরি শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালের মধ্যে মঞ্চ নির্মাণের কাজ শেষ হবে। রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব ওরফে দুলুর নেতৃত্বে গণসমাবেশ সফল করতে নানামুখী কর্মকাণ্ড চলছে।

আসাদুল হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, পরিবহন বন্ধ রাখা হলেও আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে পায়ে হেঁটে কিংবা বিকল্প ব্যবস্থায় দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সংগঠকেরা গণসমাবেশে উপস্থিত হবেন। সমাবেশ সফল করতে সব প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতারা বিভাগের আট জেলা সফর করে রংপুরে এসে পৌঁছেছেন।

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বর্তমানে রংপুরে আছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব হারুন উর রশিদ, রংপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক ও সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।