আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় কটিয়াদীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, জামায়াতের বিক্ষোভ
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কয়েক মাস আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়া এই নেতার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তাঁর সমর্থকসহ দলটির নেতা–কর্মীরা। অন্যদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের কথা বলেছেন বিএনপিসহ অন্য দলের নেতারা।
গতকাল শুক্রবার রাতে আখতারুজ্জামানের নিজ এলাকা কটিয়াদীর গচিহাটা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা। রাত সাড়ে আটটার দিকে সহশ্রাম–ধূলদিয়া ও চান্দপুর ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে মিছিলটি বের হয়। এ সময় আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন।
এদিকে আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে আজ শনিবার বিকেলে কটিয়াদী উপজেলা শহরে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে ও সন্ধ্যার পর কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, এই কর্মসূচি জেলার ১৩টি উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের আমির মোজাম্মেল হক জোয়াদ্দার প্রথম আলোকে বলেন, প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আখতারুজ্জামান সবার হয়ে বিমানবন্দরে এই অনিয়মের প্রতিবাদ করেছেন। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে কিশোরগঞ্জে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলন আরও জোরালো হবে।
তবে আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন বিএনপিসহ অন্য দলের নেতারা। কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, আখতারুজ্জামান অনেক সময় ভালো কথাও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন। এটা ঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘দেশে এখন আইনের শাসন চলছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আমরা চাই, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি আব্দুর রহমানের বাড়ি ও আখতারুজ্জামানের বাড়ি কটিয়াদীর একই ইউনিয়নে। আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এত উত্তেজনা ভালো নয়। আখতারুজ্জামান অনেক সময় উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। বিমানবন্দরের ঘটনায় যা ঘটেছে, তার ফয়সালা আইনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।’
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ আখতারুজ্জামানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলছেন, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে জোরালো প্রতিবাদ দরকার ছিল। আখতারুজ্জামান সেই প্রতিবাদ করেছেন বলে তাঁরা মনে করেন।
রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরদিন শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাঁকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে পরপর দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিনি একাধিকবার বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি জামায়াতে যোগ দেন। তাঁর জামায়াতে যোগ দেওয়ার সময়ও কিশোরগঞ্জে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।