চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে কিশোর নিহত, রক্তাক্ত জখম দেখে অসুস্থ হয়ে দাদার মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএনপির দুই পক্ষের হামলা ও সংঘর্ষে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া রক্তাক্ত জখম দেখে নিহতের দাদা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে ছত্রপাড়া গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লাল খানের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আব্দুল হান্নান পক্ষের কুবীর কাজী (৫০) ও শিমুল কাজী (১৭) এবং প্রতিপক্ষের নেতা লাল খান (৪৫) আহত হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কুবীর ও শিমুলের হাত-পা, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ এবং লাল খান রক্তাক্ত জখম হয়।
এদিকে রক্তাক্ত কুবীর কাজী ও শিমুল কাজীকে দেখে নাজিম উদ্দিন কাজী (৭৫) দুপুরেই ঘটনাস্থলে অসুস্থ হয়ে মারা যান। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে শিমুল কাজী মারা যান। মৃত নাজিম উদ্দিন হামলায় নিহত শিমুল কাজীর দাদা এবং আহত কুবীর কাজীর ভাতিজা।
এ সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শনিবার ঈদের দিন দুপুরের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত কুবির কাজী ও শিমুল কাজীকে প্রথমে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুজনকেই সেখান থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় শিমুল কাজী মারা যান। সংকটাপন্ন অবস্থায় কুবির কাজীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহত লাল খান কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, তা জানা যায়নি।’
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে বিপুল পরিমাণ খাসজমি আছে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের স্থানীয় নেতারা এসব জমির নিয়ন্ত্রণসহ এলাকায় নানাভাবে আধিপত্য বিস্তার করে থাকেন। খাসজমির নিয়ন্ত্রণসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ আব্দুল হান্নান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. লাল খানের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
ডাউকি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দার হোসেন দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কথা স্বীকার করে বলেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজের (রাসেল) বাড়ি ছত্রপাড়া গ্রামে। শনিবার দুপুরে তাঁর বাড়িতে অনুষ্ঠান ছিল। গ্রামের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
আব্দার হোসেন জানান, গতকাল বিএনপির অনুসারীদের মধ্যে কারা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তা নিয়ে আব্দুল হান্নান ও লাল খানের অনুসারীদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন লাল খানের ভাতিজা তরিকুলকে মারধর করেন। প্রতিশোধ নিতে লাল খানের লোকজন হামলাকারীদের খুঁজতে থাকেন। গতকাল দুপুরে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে ছত্রপাড়া গ্রামে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশকে বলেছি, গ্রামের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাতে। যাদের বাড়িতে অবৈধ এসব অস্ত্র পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’