৪২ মণ ওজনের ‘ঈশা খাঁ’র প্রিয় খাবার শেওড়াগাছের পাতা

ঈদুল আজহার বাজার মাতাতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘ঈশা খাঁ’। সামনে আছেন গরুটির মালিক নেত্রকোনা সদর উপজেলার ফচিকা গ্রামের খায়রুল ইসলামছবি: প্রথম আলো

নেত্রকোনায় এবারের কোরবানিতে আলোচনার কেন্দ্রে বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘ঈশা খাঁ’। তিন বছর আট মাস বয়সী ফ্রিজিয়ান জাতের কালো-সাদা রঙের গরুটির ওজন প্রায় সাড়ে ৪২ মণ। উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ ফুট। শেওড়াগাছের পাতা খেতে বেশি পছন্দ গরুটির। ঈদুল আজহা সামনে রেখে গরুটিকে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন মালিক খায়রুল ইসলাম। ভালো দাম পেলে আলোচনা সাপেক্ষে বিক্রি করবেন তিনি।

খায়রুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের ফচিকা গ্রামে। তিনি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য।

গত বুধবার দুপুরে খায়রুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আঙিনার দুটি কাঁঠালগাছের মাঝে প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে বাঁধা আছে ‘ঈশা খাঁ’। দূরদূরান্ত থেকে আসা উৎসুক মানুষ গরুটি দেখছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। কিছুক্ষণ পর খায়রুল ইসলাম গরুটিকে গোসল করাতে ও খাবার দিতে খামারে নিয়ে যান।

স্থানীয় লোকজন ও খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরুটির জন্ম খায়রুল ইসলামের খামারেই। জন্মের পর থেকে মায়ের দুধ পান করানোর পাশাপাশি দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হয়। প্রয়োজনমতো খাবার ও পরিচর্যায় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে আকৃতি। মাত্র দুই মাস বয়সেই গরুটির চলাফেরায় আলাদা আভিজাত্য দেখে নাম রাখা হয় ‘ঈশা খাঁ’।

গত বছর কয়েকজন ক্রেতা গরুটির দাম ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছিলেন। কিন্তু মায়ার কারণে সেটি বিক্রি করেননি খায়রুল ইসলাম। এবার অবশ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

খায়রুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর এক ছেলে ও দুই মেয়ের পাশাপাশি গরুটিকেও তিনি নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। রাতে ঘুমানোর আগে গরুটিকে না দেখে তাঁর ঘুম হয় না। সকালে ঘুম থেকে উঠেও প্রথমে গরুটিকেই দেখেন। খাদ্যতালিকায় আছে কাঁচা ঘাস, খড়, কলা, গম ও ধানের ভুসি, খইল, খুদে ভাত, শাকসবজি ও বিভিন্ন গাছের লতাপাতা। তবে সবচেয়ে পছন্দ শেওড়াগাছের পাতা।

খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘গরুটি আমার সন্তানের মতো। তাকে না দেখে ঘুমাতে গেলে তৃপ্তি আসে না। শান্ত স্বভাবের গরুটিকে আমি বাইরে গেলে আমার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার ও ছেলের রবিউল দেখাশোনা করে। সব সময় তার ওপরে বৈদ্যুতিক পাখা দিতে হয়, প্রতিদিন গোসল করাতে হয়। সব মিলে এক মণের মতো খাবার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে গরুটির ওজন সাড়ে ৪২ মণ। ছবি ও ভিডিওতে গরুটির আয়তন ছোট মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক বড় আকৃতির। ভালো ক্রেতা পেলে আলোচনা সাপেক্ষে গরুটি এখন বিক্রি করে দেব।’

খাইরুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘ঈশা খাঁকে আমরা সন্তানের মতো করে লালন–পালন করছি। কলা, লতাপাতা ও শাকসবজি খেতে ভীষণ পছন্দ গরুটির। তবে শেওড়াগাছের পাতা তার প্রধান খাদ্য। জন্মের পরই তার অভিজাত চালচলন দেখে আমার স্বামী তার নাম ঈশা খাঁ রেখেছেন। গরুটিকে দেখতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে আমাদের বাড়িতে লোকজন আসেন। তা দেখে আমাদের আনন্দ লাগে।’

নেত্রকোনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে গরুটিকে খামারি খাইরুল ইসলাম লালন–পালন করছেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে গরুটি এখন বিশাল আকার ধারণ করেছে। মনে হয় জেলায় এটি সবচেয়ে বড় গরু। গরুটির ওজন ১ হাজার ৬০০ কেজির ওপরে। এ ধরনের গরু তৈরিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।