উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ৭ নভেম্বর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে বর্ধিত সভার আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এ জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হকসহ দলটির নেতারা কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। বেলা একটার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা সভায় যোগ দিতে কার্যালয়ে যান। তাঁরা কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার-ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় নেতারা জানান, সদ্য অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে বিজয়ী পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম ওরফে বাবলু এবং পরাজিত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আজহারুল ইসলামের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা সভাস্থল ত্যাগ করলে বর্ধিত সভা পণ্ড হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সমর্থকদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। দুই পক্ষের নেতাদের দাবি, তাঁদের তিন থেকে চারজন কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বর্ধিত সভায় সংসদ সদস্য পৌঁছানোর পর তাঁর অনুসারীরা নেতা-কর্মীদের ওপর অতর্কিত মারপিট শুরু করেন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য তানভীর হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেটা সত্য নয়। গত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ওই নেতাদের বর্ধিত সভায় উপস্থিত হওয়ার সুযোগ করে দেন সভাপতি মাসুদুল হক। সেই বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বিষয়টি দেখেছেন।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহার আহমেদ বলেন, সভাস্থলে যাওয়ার পর বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তাই ওই সভা বাতিল করে জেলার নেতারা চলে আসেন।