বিদেশি পিস্তলসহ জঙ্গল সলিমপুরের ‘নলা কাশেম’ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি ‘নলা কাশেম’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশছবি: পুলিশের সৌজন্যে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সলিমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলার আসামি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আবুল কাশেম (৪৩)। পুলিশ জানায়, আবুল কাশেম জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় নলা কাশেম নামে পরিচিত। তিনি ওই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও ডাকাতির ১৫টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে ৬টি গুলি, পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ সলিমপুরে অভিযান চালান। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আবুল কাশেম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে ধাওয়া করে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁর দুই সহযোগী পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা হবে। তাঁকে আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি। এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ডে অবস্থান হলেও এটি অনেকটা নগরের ভেতরেই। এর পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ থানা।

আরও পড়ুন

পুলিশ ও জঙ্গল সলিমপুরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। রোকন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (বহিষ্কৃত)। র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়া এবং হামলার পেছনে সন্ত্রাসীদের এই দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয় উঠে আসছে।

এসব নিয়ে সমালোচনার মুখে গত ২ মার্চ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির যৌথভাবে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালায়। এর পর থেকে ওই এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। প্রথমবারের মতো একটি বড় অভিযান রক্তপাত ছাড়াই শেষ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলার মুখেও পড়েননি। যদিও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আগেই পালিয়ে যায়। অভিযানের পর পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় যৌথ বাহিনী। ভেতরে স্থাপন করা হয় পুলিশের দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প।