সেতুতে উঠতে হয় সাঁকো বেয়ে 

মদন উপজেলার মদন-ফতেপুর সড়কে নির্মিত ১১টি সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নেই। ধসে যাওয়ার পর আর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

নেত্রকোনার মদন উপজেলার মদন-ফতেপুর সড়কের বয়রাহালা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক নেই। নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে সেতুতে ওঠানামা করছেন একজন নারী
ছবি: প্রথম আলো

নেত্রকোনার মদন উপজেলার মদন-ফতেপুর সড়কে অন্তত ১১টি সেতু আছে। কিন্তু এগুলোতে কোনো সংযোগ সড়ক। তাই সেতু দিয়ে ওঠানামা করার জন্য বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা পথচারীদের। এক যুগের বেশি সময় ধরে এভাবে পারাপার হতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ২৫ গ্রামের মানুষ।

 স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নেত্রকোনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সাত কিলোমিটার মদন-ফতেপুর সড়কের বয়রাহালা ও ডালী নদীর ওপরসহ ১১টি সেতু নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ৭০ লাখ টাকা। মাটির ওই সড়কে সেতুগুলো নির্মাণের পর এক যুগ আগে পৌরসভার অংশে দুই কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ করা হয়। বাকি অংশ এখনো কাঁচা।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় উপজেলার তিয়শ্রী, ফতেপুর ও নায়েকপুর ইউনিয়নের ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের প্রায় আট হাজার মানুষ প্রতিদিন উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করত এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু এক যুগ আগে বন্যায় ওই সড়কে নির্মিত ১১টি সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে। এরপর থেকে সেতুগুলো বেহাল । সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এ কারণে অধিকাংশ গ্রামের লোকজন দীর্ঘ পথ ঘুরে অন্য সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু বাগজান, বৈঠাখালী, ভবানীপুর, তিয়শ্রী, ফেকনী, মাধুপুর গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি। তাই প্রতিদিন কষ্ট করে ওই সেতু দিয়েই তাঁদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো বেঁধে সেতু পারাপার হচ্ছেন। 

সংযোগ সড়ক না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বোরো মৌসুমে তিয়শ্রীসহ আশপাশের তিনটি হাওরের উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে ব্যবহার করতে হয় এই সড়ক। সেতুগুলো ব্যবহার করতে না  পারায় কৃষিপণ্য অনা নেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকদের সমস্যা হচ্ছে। 

বাগজান গ্রামের ফয়েজ আহমেদ, বৈঠাখালী গ্রামের আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘আমাদের গ্রামের লোকজন এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু প্রায় এক যুগ ধরে এই সেতুগুলো আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। সেতু পার হওয়ার জন্য নিরুপায় হয়ে আমরা বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় সব চেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে আমাদের। নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা ভোটের লোভে সেতু ও রাস্তা মেরামতের শুধু আশ্বাস দিয়ে যান। নির্বাচন চলে গেলে কেউ আর খোঁজখবর রাখেন না।’

ফেকনী গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন প্রথম আলোকে, ‘আমাদের গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন একমাত্র এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় শিক্ষার্থীসহ সব পেশার লোকজন কষ্ট করে চলাচল করছেন। আমরা নিজ হেঁটে চলাচলের জন্য প্রতিবছর গ্রাম থেকে চাঁদা তুলে বাঁশের সাকোঁ সংস্কার করি। জনপ্রতিনিধি বা সরকারের কোনো দপ্তর এ বিষয়ে খোঁজ রাখে না।’

তিয়শ্রী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘মদন-ফতেপুর সড়কে ১১টি সেতু রয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুগুলো দিয়ে মানুষ চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বিষয়টি উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তাতের জানানো হয়েছে।’

মদন উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মদন-ফতেপুর রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ডিপিপিতে প্রস্তাব দিয়ে রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই কাজ শুরু করা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম শেখর প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষার পানিতে সেতুর কাছ থেকে মাটি সরে যায়। গাইড ওয়ালসহ তা সংস্কারের জন্য প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সেতুগুলে সচল করা সম্ভব হবে।’