টেকনাফে এক জালেই ধরা পড়ল ৬৮৭টি লাল কোরাল, বিক্রি ১০ লাখ টাকায়
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের একটি ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে ৬৮৭টি লাল কোরাল। ঘাটে ভেড়ার পর এসব মাছ বিক্রি হয়েছে ১০ লাখ টাকায়। গতকাল বুধবার বিকেলে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকারিয়ার ট্রলারে এসব মাছ ধরা পড়ে। এক জালে এত মাছ পেয়ে খুশিতে আত্মহারা ট্রলারের মালিক ও জেলেরা।
ট্রলারের জেলেরা জানান, কয়েক দিন সাগরে জাল ফেলে কোনো ট্রলারই তেমন মাছ পাচ্ছিল না। এমন সময় হঠাৎই জাকারিয়ার ট্রলারটিতে একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়ে। ট্রলারটি শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিঘাটে পৌঁছানোর পর মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। প্রথমে জেলেরা মাছগুলোর দাম হাঁকেন ১২ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় সেগুলো বিক্রি হয় ১০ লাখ টাকায়।
ট্রলারের মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়া (৪২) প্রথম আলোকে বলেন, সাতজন জেলে নিয়ে তাঁর ট্রলারটি মাছ ধরতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের মৌলভিরশীল নামের এলাকায় যায়। সেখানে জেলেরা জাল ফেলেন। বুধবার বিকেলে জালে ধরা পড়ে বিপুল লাল কোরাল মাছ। প্রতিটি মাছের ওজন দেড় থেকে চার কেজি। গণনা করে পাওয়া গেল ৬৮৭টি। এরপর মাছ নিয়ে সন্ধ্যার আগে শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিঘাটে ট্রলারটি ফিরে আসে।
জাকারিয়া জানান, জেলেদের জন্য ১০টি মাছ রেখে ৬৭৭টি কোরাল মাছ বিক্রির জন্য ১২ লাখ টাকা দাম চাওয়া হয়। রহিম উল্লাহ নামের এক মাছ ব্যবসায়ী ১০ লাখ টাকায় লাল কোরালগুলো কিনে নেন। প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে ৫৭৫ টাকা।
মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, গত ১ ডিসেম্বর থেকে সাগরে তেমন মাছ ধরা পড়ছিল না। মাঝখানে তাঁর ট্রলারটি দুবার সাগরে গিয়ে মাছ না পেয়ে ফিরে আসে। এখন তাঁর ট্রলারে লাল কোরাল ধরা পড়ায় জেলেদের অভাব কিছুটা দূর হলো।
ধরা পড়া কোরাল মাছ ইতিমধ্যেই কক্সবাজার ও ঢাকায় সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান মাছ ব্যবসায়ী রহিম উল্লাহ (৪৫)। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হাটবাজারে এখন সামুদ্রিক মাছের তীব্র সংকট চলছে। এ ক্ষেত্রে লাল কোরালের চাহিদা অনেক। কক্সবাজার শহরের হোটেল এবং চট্টগ্রাম ও ঢাকার বাজারে কোরালের চাহিদা বেশি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে অর্ধেক কোরাল কক্সবাজার এবং বাকি অর্ধেক কোরাল ঢাকায় সরবরাহ করা হয়েছে। সেখানে প্রতি কেজি ৭০০-৭৫০ টাকা দামে বিক্রি হবে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, লাল কোরাল গভীর সাগরে পাওয়া যায়। শীতকালে লাল কোরাল ঝাঁক বেঁধে সেন্ট মার্টিনের প্রবালের স্তূপে বিচরণ করে। পাথর ও প্রবালের কারণে সেখানে জাল ফেলা কঠিন। দ্বীপের জেলেরা সেখানে বড়শি দিয়ে বড় কোরাল ধরেন।
টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম বলেন, লাল কোরাল সুস্বাদু মাছ। হাটবাজারে একসময় প্রচুর পাওয়া যেত। এখন কমে যাচ্ছে। লাল কোরাল সর্বোচ্চ ৯ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে বলে তিনি জানান।