জেলেপল্লির বাসিন্দারা অনেক কষ্টে আছেন

দিঘী মাঝিপাড়ার জেলেপল্লিতে ১৭০টির মতো পরিবার রয়েছে। খাল-বিলে, নদ-নদীতে জাল টেনে আগে সংসার চলত এসব জেলে পরিবারের।

আর্থিক দৈন্যে কষ্টে চলছে জেলেপল্লির পরিবারগুলো। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দীঘি মাঝিপাড়া এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘী ও নতুন বসতি গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খাল। খালের পাশেই দিঘী মাঝিপাড়ার বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ্ব ফালান চন্দ্র রাজবংশী ও শনিরাম রাজবংশীর বাড়ি। বাড়ির পাশে ধসে যাওয়া একটি কালভার্টের ওপর দাঁড়িয়ে পানিশূন্য খাল নিয়ে কথা বলছিলেন তাঁরা। কথায় কথায় জানা গেল খাল–বিল–নদীতে পানিশূন্যতা এবং মাছ না থাকায় মাঝিপাড়ার বাসিন্দাদের জীবনসংগ্রাম ও সংসারের নানা টানাপোড়েনের গল্প।

দিঘী মাঝিপাড়ার জেলেপল্লিতে ১৭০টির মতো পরিবার রয়েছে। খাল-বিলে, নদ-নদীতে জাল টেনে আগে সংসার চলত এসব জেলে পরিবারের। তবে এখন খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় এবং নদীতে আগের মতো মাছ না পাওয়ায় আর্থিক দৈন্যদশায় পড়েছে পরিবারগুলো। কেউ কেউ বর্তমানে অন্যের পুকুরে জাল টেনে কিংবা আড়ত থেকে মাছ কিনে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।

কিশোর বয়স থেকেই খাল-বিলসহ বিভিন্ন স্থানে জাল টানতেন ফালান রাজবংশী। নিজের জাল কেনার মতো সামর্থ্য না থাকায় দিনে ৩০০-৪০০ টাকা মজুরিতে অন্যের জাল টানতেন। এ উপার্জনেই চলত ফালানের সংসার। তবে এ বছর বর্ষায় খালে–বিলে পানি না থাকায় আর্থিক দুর্দশায় পড়েছেন তিনি।

বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, এক টুকরা জায়গায় ছোট একটি ঘরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস ফালান রাজবংশীর। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এখন স্ত্রী, এক মেয়ে, এক ছেলে ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার তাঁর। ছোট মেয়ে তুলসি রাজবংশী (১৭) কলেজে পড়াশোনা করে। এবার তার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ছেলে জয় রাজবংশী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। করোনা মহামারির সময় থেকে সে আর বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না।

ফালান রাজবংশী বলেন, ‘বর্ষায় খালে, জমিতে পানি আসে। সেই পানিতে মাছ ধইর‌্যা বাজারে বেঁইচ্যা যে ট্যাহা পাই, তা দিয়াই সংসার চলে। ইবার পানি না হওয়ায় মাছ ধরা বন্ধ। বউ-পোলাপান নিয়া চদায় (বিপদে) আছি।’

প্রায় ৪০ বছর খালে-বিলে ও নদ-নদীতে জাল টেনেছেন কার্তিক রাজবংশী। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন আর জাল টানতে পারেন না তিনি। আড়ত থেকে মাছ কিনে বিক্রি করার মতো অর্থও তাঁর নেই। স্থানীয় জয়রা বাজারে অন্য মাছ ব্যবসায়ীর মাছ বিক্রি করেন। এ থেকে যা পান, তা থেকেই চলে তাঁর সংসার। স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে কার্তিক রাজবংশীর সংসার। ছোট্ট একটি ঘরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি থাকেন। জমিজমা বলতে কিছু নেই।

কার্তিক রাজবংশী বলেন, ‘রোগশোকে শরীর খারাপ। এহন আর জাল টানতে পারি না। বাজারে অন্য মাইনষের মাছ বেঁইচ্যা দেই, যা দেয়, তাতে এহন আর সংসার চলবার চায় না।’

দিঘী মাঝিপাড়ার জেলেপল্লির বাসিন্দাদের অর্থনৈতিক দুর্দশার বিষয়টি জানেন স্থানীয় দিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার উদ্দিন আহমেদও। তিনি বলেন, সরকার এসব দরিদ্র জেলে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।